জবি উপাচার্যের পিএসের বিরুদ্ধে একাধিক অসদাচরণের অভিযোগ, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

জবি উপাচার্যের পিএসের বিরুদ্ধে একাধিক অসদাচরণের অভিযোগ, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

জবি প্রতিনিধি:  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসহযোগিতা, রূঢ় আচরণ এবং উপাচার্যের সাক্ষাতের সময়সূচি পেতে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জকসু প্রতিনিধির সাম্প্রতিক এক অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি চাওয়া কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে যোগাযোগ করতে গিয়ে একাধিকবার পিএসের অসহযোগিতামূলক ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ ছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগস্টের পর বিষয়টি নিয়ে ডিন অফিস পর্যায়েও আলোচনা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, উপাচার্যের সাক্ষাতের সময়সূচির জন্য তাকে প্রায় তিন সপ্তাহ ঘুরতে হয়েছিল। তার দাবি, সময়সূচির বিষয়টি উপাচার্যের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানো হয়নি।

তিনি বলেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদগুলোতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আচরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

তার ভাষ্য, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকট ও কিছু সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তারা। প্রথমে তাদের জানানো হয়, বিভাগের চেয়ারম্যান ছাড়া উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করা যাবে না। পরে চেয়ারম্যানকে সঙ্গে আনার কথা জানিয়ে একটি সময়সূচি চাওয়া হলে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে এরপর আর কোনো তথ্য বা সময়সূচি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই শিক্ষার্থী পিএসের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির দাবি, সাংবাদিকদেরও ওই কর্মকর্তার আচরণের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্যেও তার আচরণকে ‘রূঢ়’, ‘বদমেজাজী’ ও ‘অসহযোগিতামূলক’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সর্বশেষ জকসুর হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা তার ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বার্ষিক ফেস্ট আয়োজনসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন তিনি। তার দাবি, উপাচার্যের পিএস প্রথমে সময়সূচি দেওয়ার দায়িত্ব তার নয় বলে জানান। পরে দায়িত্ব তার ওপর থাকার কথা স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট দিনের সাক্ষাতের বিষয়টি উপাচার্যকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তাকে উপাচার্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়।

ওই প্রতিনিধি আরও জানান, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে শুধু সাক্ষাতের সময়সূচি জানার জন্য অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তিনি বিষয়টি পরে জানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় পিএস উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে সময়সূচি দেবেন না বলে জানান—এমন অভিযোগও করেন তিনি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আচরণ, শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক কিংবা সংগঠনের প্রতিনিধি—সবার সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইচ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। আপনাদের সাংবাদিকদের কয়েকজনের মাধ্যমে মাত্রই বিষয়টি জানলাম। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পিএসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে চাচ্ছি না। আগ্রহী নই।”

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর আগেও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত বা কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184099