নাটোরের বড়াইগ্রামে রঙবিলাস আখচাষ কৃষিতে উন্মোচিত নবদিগন্ত

নাটোরের বড়াইগ্রামে রঙবিলাস আখচাষ কৃষিতে উন্মোচিত নবদিগন্ত

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ধান, পাট, সবজি কিংবা নানা অর্থকরী ফসলের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আখের চাষ হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে লাল রঙের রঙবিলাস জাতের আখ চাষে কৃষিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা, উন্মোচিত হয়েছে নবদিগন্তের। আখের (কান্ড) রঙ লাল হওয়ায় এলাকাবাসী নামকরণ করেছে রঙবিলাস। স্বাদে মিষ্টি, কান্ড নরম হওয়ায় সহজেই এটি খাওয়া যায়। প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় ভালো লাভ হয় এ ফসলে। তাই আখ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। কিন্তু আখ চাষে বাধা রেডরট ডিজিজ।

উপজেলার মহিষভাঙ্গা গ্রামের আখচাষী মাহফুজ হোসেন বলেন, গত দুই বছর ধরে তিনি এক বিঘা জমিতে রঙবিলাস জাতের আখ আবাদ করেন। প্রতি বিঘায় গড়ে ৬ হাজার পিছ আখ উৎপন্ন হয়। যা গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। খরচ হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় হয় তার। আখচাষি রুবেল আলী বলেন, রঙবিলাস জাতের আখ চাষে প্রচুর সার, ওষুধ ও সেচ ছাড়াও এর পরিচর্যায় প্রতি বিঘায় ৬৫/৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ আখ চাষে বড় বাধা রেড রট (পচন রোগ)। কোনো আখ গাছ আক্রান্ত হলে কান্ডের ভেতর ও পাতা লালচে হয়ে যায়।

কৃষকরা জানান, সহজে চিবিয়ে খাওয়া যায় বলে বাজারে এ আখের চাহিদা রয়েছে। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা আখ কিনে নেওয়ায় বাজারজাত করার ঝামেলাও কম। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর আবাদ। শুধু আখ বিক্রি নয়, একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে রসুন বা পেঁয়াজ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজিব আল মারুফ বলেন, নাটোরে দু’টি চিনিকল থাকায় এ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে আখের চাষ হয়ে আসছে। বড়াইগ্রামে সাধারণত ঈশ্বরদী ৩৬, ৪১, ৪৩, ৪৪ জাতের আখ চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ৫১ হেক্টর জমিতে এ জাতের আখ চাষ হয়েছে। ঈশ্বরদীতে উদ্ধাবিত জাতগুলো থেকে রঙবিলাস অধিক লম্বা ও মোটা হয়। আখগুলো মিলে বিক্রি হয় না। এগুলো হাটে-বাজারে চড়া দামে কেনা-বেচা হয়। ছত্রাক জাতীয় (রেড রট) রোগে আখগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত গাছ জমি থেকে দ্রুত উপড়ে ফেলা উত্তম। 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184094