দুপচাঁচিয়ায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ওষুধ উদ্ধার এক সপ্তাহেও খোলেনি রহস্যের জট
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চত্বর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় এক সপ্তাহেও মূল রহস্য উদঘাটিত হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর গুনাহার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসে স্থানীয় লোকজন ভবনের পাশে ও সামনের ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ওষুধ ছড়ানো-ছিটানো এবং প্যাকেটজাত অবস্থায় দেখতে পান। ওষুধগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় এক যুবক ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসানের নজরে আসে। তিনি ওই দিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট আব্দুল মান্নানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এছাড়া কনসালট্যান্ট ডা. আনোয়ারুল্লাহকে সভাপতি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান ও স্টোর কিপার বুলবুল ইসলামকে সদস্য করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ফার্মাসিস্ট আব্দুল মান্নান কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে জানান, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো তার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নয়। ওষুধের গায়ে সরকারি সিল থাকলেও এগুলো কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকের হতে পারে। কেউ শত্রুতা করে ওষুধগুলো সেখানে ফেলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, ফার্মাসিস্টের শোকজের জবাব পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টক রেজিস্টারের সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ বিতরণের মিল রয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘দৈনিক করতোয়া’ একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও ওষুধগুলো কোথা থেকে এলো, তা জানা যায়নি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184067