কবি বিনয় মজুমদারের জন্মদিন আজ

কবি বিনয় মজুমদারের জন্মদিন আজ

করতোয়া বিনোদন : বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী কবি বিনয় মজুমদারের জন্মদিন আজ। বিজ্ঞান, গণিত ও বিশুদ্ধ অনুভূতির মেলবন্ধনে বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কাব্যভাষা নির্মাণ করেছিলেন এই মগ্ন স্রষ্টা।

১৯৩৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) মিকাতিলা জেলার টোডো শহরে জন্মগ্রহণ করেন বিনয় মজুমদার। তার পিতা বিপিনবিহারি মজুমদার ও মা বিনোদিনী দেবী। ১৯৪৮ সালে দেশ ভাগের সময় তারা সপরিবারে ভারতের কলকাতায় চলে যান। 

কলকাতার মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৫৭ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। মেধার স্বীকৃতি হিসেবে কর্মজীবনে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট ও ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যুক্ত ছিলেন। রুশ ভাষা শিখে কিছু রুশ সাহিত্যও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। তবে সব পেশা পেছনে ফেলে একসময় তিনি বেছে নেন কবিতার নির্জন পথ।

১৯৫৮ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নক্ষত্রের আলোয়’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাহিত্যজগতে স্থায়ী পদচারণা শুরু হয়। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত ‘ফিরে এসো চাকা’ তাঁকে বাংলা কাব্যসাহিত্যে চিরস্থায়ী খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তা এনে দেয়। ষাটের দশকের শুরুতে তিনি হাংরি আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৬২-৬৩ সালে তাঁর কয়েকটি কবিতা হাংরি বুলেটিনে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মতপার্থক্যের কারণে তিনি ওই আন্দোলন থেকে সরে আসেন।

‘গায়ত্রীকে’, ‘ঈশ্বরীর’, ‘অধিকন্তু’, ‘অঘ্রাণের অনুভূতিমালা’, ‘বাল্মীকির কবিতা’, ‘আমাদের বাগানে’, ‘এক পঙক্তির কবিতা’, ‘আমিই গণিতের শূন্য’ ও ‘কবিতা বুঝিনি আমি’সহ বহু কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার ও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।

পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ মানসিক অসুস্থতা, নিঃসঙ্গতা ও চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি হতে হয় এই কবিকে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার ও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৬ সালের ১১ ডিসেম্বর দীর্ঘ রোগভোগের পর শিমুলপুরের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184007