বগুড়ায় মোকছেদুল হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও অধরা

বগুড়ায় মোকছেদুল হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও অধরা

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় মোকছেদুল হাসান হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও অধরা। হত্যাকান্ডের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও অধিকাংশ আসামি রয়েছে অধরা। সেইসাথে কি কারণে এই হত্যাকান্ড সে বিষয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানিয় সূত্র বলছে, একটি আমবাগান লিজ নেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্র ধরে মোকছেদুলকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু  পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেন মোকছেদুলকে হত্যা হলো সে বিষয়ে ধোঁয়াশা আছে। এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃতরা কিছু বলেনি। তবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এহত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মোকছেদুল হত্যার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত মোকছেদুলের মা রেবেকা বেগম বাদি হয়ে সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে এই মামলার এজাহার নামিয় তিন আসামিসহ তদন্তেপ্রাপ্ত আরো এক আসামিসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর মধ্যে মামলর ২ নম্বর আসামি রিফাত ও ৩ নম্বর আসামি হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। রিমান্ডে তারা তেমন কোন তথ্য দেয়নি। রিমান্ড শেষে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে অন্যান্য পলাতক আসামিদের অভিযান চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে বগুড়া মহানগরের মাটিডালি উত্তরপাড়ায় জারা কার হাউসের বিপরীতে বসে ছিলেন তিনি। এসময় একটি সন্ত্রাসী দল মোটর সাইকেলে ও মাইক্রোবাসে এসে কয়েক রাউন্ড  ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতংক সৃষ্টি করে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

পরে লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মোকছেদুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ দিন পর তার মৃত্যু হয়। নিহত মোকছেদুল মাটিডালি উত্তরপাড়ার মো. হায়দার আলীর ছেলে।

এদিকে হামলার ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর মোকছেদুলের মা মোছা. রেবেকা বেগম বাদি হয়ে বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. নাজমুল হুদা রিফাত (২১) ও মো. হাসান আকন্দকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া পরবর্তীতে এজাহারভুক্ত ৭ নম্বর আসামি সিজার ও তদন্তেপ্র্রাপ্ত আরো এক আসামিসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বোরের পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

তবে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পিস্তলটি উদ্ধার করা যায়নি। অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও অস্ত্রটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে বগুড়া সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183982