স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ‘থিতান’ প্রথম রানার আপ ‘গ্রীন পোলারিস’ ও দ্বিতীয় রানার আপ ‘শূণ্য’
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ-এর বাংলাদেশ আঞ্চলিক পর্বের গ্র্যান্ড ফাইনাল আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডিপার্টমেন্ট। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাভারের বিরুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজনে কারা বাংলাদেশ (ঈধৎধ ইধহমষধফবংয) ও অ্যাক্সিয়ন বাংলাদেশ (অীরড়হ ইধহমষধফবংয) ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করেছে।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ‘থতান’দল এবং প্রথমরানার আপ হয় ‘গ্রীন পোলারিস লিমিটেড’ দল ও দ্বিতীয় রানার আপ হয় ‘শূন্য’ দল। এবারের প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে দেশের সেরা ১০টি স্টার্টআপ দল চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করেছে। বিজয়ী দলগুলো মোট ১,০০,০০০ টাকা পুরস্কার লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। সেখানে দলটি ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পুরস্কারের জন্য পিচ করার সুযোগ পাবে। এছাড়া শীর্ষ ১০টি দল একটি বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশগ্রহণের জন্য সান ফ্রান্সিসকোতে আমন্ত্রণ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভার্চূয়্যালী বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মি. জাস্টিন জ্যাকসন, ডেভেলপমেন্ট পরিচালক, পেগাসাস টেক ভেঞ্চারস, যুক্তরাষ্ট্র, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান, উপ সচিব আইসিটি ডিভিশন এবং ং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের প্রথম ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান দিদার। প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বনামধন্য তরুণ উদ্যোক্তা এবং লাইভ শপিং-এর সিইও ও ফাউন্ডার মো. আশিক খান।
অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বলেন, “ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডিপার্টমেন্ট সবসময় শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় বিভাগটি দ্বিতীয়বারের মতো স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজন করেছে।” তিনি আরো বলেন, স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মি. জাস্টিন জ্যাকসন, বলেন, “বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা হলো স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মেধাবী উদ্যোক্তাদের তুলে ধরার জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।”
স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি দেশের উদ্ভাবনী ও সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা বিনিয়োগকারী, শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন, যা তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডিপার্টমেন্ট দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এ ধরনের আয়োজন উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।