ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়া খেলায় ৪ পুলিশ গ্রেফতার পলাতক ২
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে টাকার বিনিময়ে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানা, পিপিএম-সেবার ডান হাতের মধ্যমা আঙুল ভেঙে গেছে।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার টহল দল গোপন সূত্রে খবর পায়, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাস দিয়ে জুয়া খেলছেন।
খবর পেয়ে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করে পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের মধ্যমা আঙুল ভেঙে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)। তাদের মধ্যে সোহেল রানার বিপি নম্বর ৯৩১৩১৬২৯৮৫, শান্তি কুমার রায়ের ৮৮০৮১২০৪৯৫, আলমগীর কবিরের ৯২১১১৪০৩৬৯ এবং শাহাদত জামানের ৮৭০৫১০৫৯২১।
অভিযানকালে সুযোগ বুঝে আরও দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। তরা হলেন- পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল ও গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ ৫০ টাকার একটি নোট, ‘উঙঘ’ ব্র্যান্ডের পাঁচ সেট বা ২৬০টি তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে আলমগীর কবিরের কাছ থেকে দুটি স্যামসাং মোবাইল ফোন, সোহেল রানার কাছ থেকে দুটি সিমসহ একটি রেডমি ১৩-সি এবং শাহাদত জামানের কাছ থেকে দুটি সিমসহ একটি রিয়েলমি অ্যান্ড্রয়েড ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে নীলফামারী-হ-১৩-৭২২১ নম্বরের নীল রঙের ১২৫ সিসি ডিসকাভার মোটরসাইকেলটির মূল্য লাখ টাকা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ইয়ামাহা এফজেডএস ডাবল ডিস্কের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, লাল-কালো রঙের বাজাজ পালসারের মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন লাল রঙের টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০-এর মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই (নিঃ) মো. লিখন হোসেন বাদি হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঠাকুরঁগও সদর থানায় মামলা নম্বর ২৯/৩১৪, তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রুজু করা হয়। মামলাটি ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দন্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পালকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুজিত কুমার পাল বলেন, ‘আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ বা অন্য যে কারও ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’ অপরাধে জড়িত গ্রেফতার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183853