বগুড়ায় ৭২৪২ হাজার কোটি টাকার রবি শস্য উৎপাদনের লক্ষ্য
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় ২০২৬-২৭ রবি মৌসুমে ৭ হাজার ২৪২ কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। বার্ষিক উৎপাদন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ হেক্টর জমিতে ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪১ মেট্রিকটন ফসল ফলানোর লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, উৎপাদিত রবি ফসলের সম্ভাব্য বাজার মূল্য দাঁড়াবে ৭ হাজার ২৪২ কোটি ৩৮ লাখ ১৮ হাজার ২০০ টাকা। তালিকায় খাদ্যশস্য, ডালজাতীয় ফসল, তেলবীজ, মসলা এবং শীতকালীন শাকসবজিসহ বিভিন্ন রবি ফসল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বগুড়ার কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, একক ফসল হিসেবে আবাদ ও আর্থিক মূল্যে শীর্ষে রয়েছে আলু। ৫২ হাজার ৯০১ হেক্টর জমি থেকে গড়ে ২৩ দশমিক ২৬ মেট্রিকটন ফলনে মোট ১২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৭ মেট্রিকটন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টনপ্রতি ২০ হাজার টাকা হিসেবে সবজিটির বাজারমূল্য দাঁড়াবে ২ হাজার ৪৬০ কোটি ৯৫ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা।
১৩ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। ২২ দশমিক ৯০ মেট্রিকটন গড় ফলনে উৎপাদিত হবে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন সবজি, যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য ১ হাজার ৩৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, টনপ্রতি মূল্য ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা।
তেলজাতীয় শস্যের মধ্যে ৩৯ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে ১ দশমিক ৬৩ মেট্রিকটন গড় ফলনে মোট ৬৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ৫৫ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে, টন প্রতি ১ লাখ টাকা ধরে যার সম্ভাব্য মূল্য ৬৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
১৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমি থেকে ১১ মেট্রিকটন গড় ফলনে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮০ মেট্রিকটন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ৫৯০ কোটি ৪ লাখ টাকা, টনপ্রতি মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ৩ দশমিক ৪৩ মেট্রিকটন গড় ফলনে ১৯ হাজার ২০৮ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য ৫৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, টনপ্রতি মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। মসলাজাতীয় ফসল রসুনের উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। ৭ দশমিক ২৫ মেট্রিকটন গড় ফলনে মোট ফলন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন।
টনপ্রতি ১ লাখ টাকা ধরে যার আনুমানিক মূল্য ৪০৬ কোটি টাকা। ৩ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ১০ দশমিক ১ মেট্রিকটন গড় ফলনে এবার ৩২ বাজার ১৮২ দশমিক ১৫ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। টনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা ধরে যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য দাঁড়াবে ৯৬ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা।
ভালো দামে মিষ্টি আলুর আবাদেও বগুড়ার কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জেলায় ৭৫০ হেক্টর জমি থেকে ১৬ দশমিক ৪০ মেট্রিকটন গড় ফলনে ১২ হাজার ৩০০ মেট্রিকটন মিষ্টি আলু উৎপন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যার বাজার মূল্য ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, টনপ্রতি মূল্য ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা।
১ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে ৩ দশমিক ১০ মেট্রিকটন গড় ফলনে ৪ লাখ ৭২৭ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন গম উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। টনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা ধরে যার সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় ২১ কোটি ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায়।
এছাড়াও ১২শ’ হেক্টর জমিতে ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার মসুরের ডাল, ১১শ’ হেক্টর জমিতে ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার চীনাবাদাম, ৯০ হেক্টর জমিতে ১২ কোটি ২৪ লাখ টাকার আখ, ৮৫০ হেক্টর জমিতে ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার খেসারি ডাল, ২৫ হেক্টর জমিতে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কালোজিরা, ২৬ হেক্টর জমিতে ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার বীজধনিয়া, ১৪ হেক্টর জমিতে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মটর, ২৭ হেক্টর জমিতে ২৯ লাখ ১৬ হাজার টাকার তিল, ২৫ হেক্টর জমিতে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাসকালাই, ৯ হেক্টর জমিতে ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার অড়হর, ১০ হেক্টর জমিতে ১২ লাখ টাকার মুগডাল, ৫ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার সূর্যমুখী, ২ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ছোলা, ৩ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার তিসিসহ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ১ হাজার কোটি টাকার অন্যান্য ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বগুড়ার মাঠে মাঠে রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। তবে এবার বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকই জমি প্রস্তুত করে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। তারা বলছেন, চাষ মৌসুমে ফসলের বীজ ও সারের দাম যদি লাগামহীন না হয় এবং বিক্রির সময় ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়, তবেই তাদের ফসল উৎপাদন সার্থক হবে।
তারা আরও বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পোকা-মাকড় ও রোগের প্রকোপ বেড়েছে। রোগবালাই দমনে ঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল কীটনাশকের কারণেই তাদের সর্বস্বান্ত হতে হয়।
এ ব্যাপারে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা। জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, বগুড়ার উর্বর মাটিতে স্থানীয় চাষিরা নিবিড় চাষাবাদে অভ্যস্ত হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময়মতো সেচ, সার ও বীজের যোগান বজায় থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ রবি মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা হবে। তবে বাজার মূল্যের উঠা-নামার কারণে লক্ষ্যমাত্রার মূল্য কম-বেশি হতে পারে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183685