গাজীপুরে গার্মেন্টসকর্মী ডলি আক্তার হত্যা, গ্রেফতার ৩
গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত ও খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে নিহতের প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর শহরের রাজদীঘির পাড় পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
নিহতের নাম ডলি আক্তার। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার পাহাড় পাবইজান গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার মেয়ে। পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মিশন ইসলাম ও ডলি আক্তারের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই জটিলতার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, নিহত ডলি আক্তারের প্রেমিক মো. মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। গ্রেফতার তিনজনই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মূল অভিযুক্ত মো. মিশন ইসলাম বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার বড়িয়াহাট এলাকার মো. মাসকুর আলমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ডলি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি একাই ওই বাসায় বসবাস করতেন। বাঘের বাজার এলাকার একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর এলাকার একটি খাল থেকে ব্রিফকেস ও বস্তার মধ্যে থেকে খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হলে, তার বড় ভাই সোহেল জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করা হয়। একই দিন মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যানুযায়ী মিশন ইসলামের বাহাদুরপুর এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ খণ্ডিত করতে ব্যবহৃত একটি বটি-দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্যুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ডলি আক্তার প্রায়ই মিশন ইসলামের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
পিবিআই জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি আক্তার মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থাকেন।
আসামি মিশনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আগের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে নিয়ে বিরোধের কারণে তার (মিশন) মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে ডলি ঘুমিয়ে পড়লে মিশন তাকে লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মো. রকিবুল আক্তার বলেন, ‘পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মিশন ইসলাম ও ডলি আক্তারের ভেতরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই জটিলতার কারণেই ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না এবং ঘটনার অন্যান্য দিক ও আলামত সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183661