পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : পিৎজার নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। আট থেকে আশি-এই ইতালিয়ান খাবারের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু বিদেশের গণ্ডিতে আটকে নেই। চিকেন পিৎজা, বারবিকিউ পিৎজা কিংবা চিজি পিৎজা-স্বাদে নতুনত্ব আনতে নানা ধরনের পিৎজা এখন পাওয়া যায়। কিন্তু ওজন কমানোর চেষ্টা করলে পিৎজার নাম শুনেই অনেকেই দূরে সরে যান।

কারণ পিৎজায় সাধারণত পরিমাণমতো ময়দার বেস, চিজ ও বিভিন্ন টপিং থাকে। সঙ্গে যদি সফট ড্রিংক কিংবা অতিরিক্ত চিজ যোগ হয়, ক্যালোরির পরিমাণ বেশ বেড়ে যায়। তবে তার মানে এই নয় যে ডায়েট করলে পছন্দের খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। বরং পরিমাণ ও খাবারের সঙ্গে কী খাচ্ছেন-সেদিকে একটু নজর রাখলেই মাঝে মাঝে পিৎজা কেতে পারেন।

পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংক নয়
পিৎজা খাওয়ার সময় সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় রাখার অভ্যাস অনেকেরই। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করতে হবে। কারণ চিনিযুক্ত সফট ড্রিংক থেকে খুব সহজেই অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে। 

তাই পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংকের বদলে পানি, সোডা ওয়াটার বা চিনি ছাড়া কোনো পানীয় বেছে নিতে পারেন। এতে পিৎজার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের সম্ভাবনা কমবে।

শুধু পিৎজা খেলে অনেকেরই একের পর এক স্লাইস খেতে ইচ্ছা করতে পারে। এই অভ্যাস এড়াতে পিৎজার সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ রাখতে পারেন।

শসা, টমেটো, লেটুস, গাজরের মতো সবজি দিয়ে সালাদ বানাতে পারেন। চাইলে সঙ্গে গ্রিলড চিকেন, ডিম কিংবা অন্য কোনো পছন্দের প্রোটিন যোগ করা যায়। ফাইবার ও প্রোটিনযুক্ত খাবার তুলনামূলক বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পিৎজা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার প্রবণতাও কিছুটা কমতে পারে।

তবে সালাদের সঙ্গে অতিরিক্ত মেয়োনিজ, ক্রিমি ড্রেসিং বা চিজ যোগ করলে উল্টো ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে। তাই ড্রেসিংয়ের পরিমাণেও নজর রাখা জরুরি।

পিৎজাতে অনেকেই বেশি চিজ খেতে পছন্দ করেন। অর্ডার করার সময় বাড়তি চিজ যোগ করাও কারো কারো অভ্যাস। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত চিজ এড়িয়ে চলাই ভালো।

পিৎজায় আগে থেকেই চিজ থাকে। তাই বাড়তি চিজ না চেয়ে স্বাভাবিক পরিমাণেই খেতে পারেন। চাইলে বেশি সবজি ও তুলনামূলক হালকা টপিং বেছে নিতে পারেন। চিকেন বা অন্য প্রোটিন টপিং নিলে সেটি কীভাবে রান্না করা হয়েছে, সেটিও খেয়াল করুন। অতিরিক্ত তেল বা ভাজা টপিংয়ের বদলে গ্রিলড বা রোস্টেড অপশন তুলনামূলক ভালো হতে পারে।

স্লাইসের সংখ্যাতেও নজর দিন
ডায়েটের মধ্যে পিৎজা খেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পরিমাণ। ‘আজ পিৎজা খাব’ ভেবে একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেলার বদলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন। ধীরে ধীরে খেলে কখন পেট ভরে যাচ্ছে, সেটিও বুঝতে সুবিধা হয়।

আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-কোনো একটি খাবার একা ওজন বাড়ায় বা কমায় না। দিনের মোট খাবার, মোট ক্যালোরি, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস মিলিয়েই ওজনের ওপর প্রভাব পড়ে।

তাই ডায়েট মানেই পিৎজা চিরতরে বাদ নয়। মাঝে মাঝে পিৎজা খেতে পারেন, তবে পরিমাণ বুঝে এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটি মাথায় রেখে। পছন্দের খাবারকে পুরোপুরি নিষেধ না করে সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখতে বেশি বাস্তবসম্মত।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, এনডিটিভি

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183563