সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি অজ্ঞাত বস্তু (ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন) সৌদি আরবের দক্ষিণের জাজান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

তবে হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ওই হামলা চালিয়েছে। জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার হুতিদের ছোড়া ওই অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে বলে জানানো হয়েছে। বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনার পরপর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

মুখপাত্র আরও বলেন, বেসামরিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’। তবে হুতিরা বলেছে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের শারুরাহ এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ওই হামলা চালায়।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার তারা সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় নারী, শিশুসহ ৭৩ জন আহত হন বলে জানা গেছে। হুতিরা গত শুক্রবার ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানায়। এর আগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয় তারা। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির বিকল্প বাণিজ্যপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতিরা।

অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আল-জাওফ, মারিব ও আল-বায়দা এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াই শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ লড়াইয়ে এরই মধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো মানুষ।

এ সংকট নিয়ে চলতি মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে সংস্থাটির ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেনে যুদ্ধ ‘নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ের’ দিকে এগোচ্ছে। খবর : আল জাজিরা

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183497