পাবনার বেড়ায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

পাবনার বেড়ায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১২টি। এসব বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও রয়েছে ১১২টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৮৩জন প্রধান শিক্ষক। ফলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের ২৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৮৫টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৬৪৪ জন শিক্ষক। অর্থাৎ সহকারী শিক্ষকেরও ৪১টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান ও সহকারী শিক্ষক উভয় পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাকে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও চালিয়ে যেতে হয়। একই সাথে দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিসহ নানা দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

এতে শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে সরকার এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। আশা করছি, দ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183338