নীলফামারীর ডিমলায় শ্বশুরবাড়িতে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে এমদাদুল হক (২৫) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মৃত এমদাদুল হক উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আনারুল ইসলামের ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে একই উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাদশা মিয়ার মেয়ে বন্যা বেগমের (২০) সাথে তার বিয়ে হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই এমদাদুল ও বন্যার মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর এমদাদুল স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। পরবর্তীতে গত ৭ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে ওই রাতে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী বন্যা, শ্বশুর বাদশা মিয়া, শাশুড়ি সবুরা বেগমসহ পরিবারের কয়েকজনের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজন মিলে এমদাদুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঘটনাটি আড়াল করতে মুখে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে পার্শ্ববর্তী বাইশপুকুর এলাকার তিস্তা ব্যারেজের লোহার গেটসংলগ্ন রাস্তার পাশে গোপনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
পরে পথচারীরা রাস্তার পাশে এমদাদুলকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখান থেকে চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার এমদাদুল হকের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে স্ত্রী বন্যা, শ্বশুর বাদশা মিয়া, শাশুড়ি সবুরা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
এদিকে এমদাদুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর কোতোয়ালি থানা থেকে ডিমলা থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এমদাদুলের বাবা বাদি হয়ে ডিমলা থানায় এজাহার দাখিল করেছেন।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর এমদাদুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183242