সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বেদে পরিবারের শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বেদে পরিবারের শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: করতোয়া নদীর পাড়ে অস্থায়ী থুপরীঘর। সকাল হলেই সেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন নারীরা। কারও হাতে সাপ, কারও ঝুড়িতে চুড়ি, আবার কেউ শিঙা বাজিয়ে ওষুধ বা নানা সামগ্রী বিক্রি করছেন। দিন শেষে যা আয় হয়, তা নিয়েই ফেরেন অস্থায়ী ডেরায়। এভাবেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে জীবন কাটছে ভ্রাম্যমাণ বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের।

নেই তাদের শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ। সারাদিন নদীপাড়ে খেলাধুলা করেই কাটে তাদের সময়। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঐতিহাসিক ঘাটিনা রেল ও সড়ক সেতুর পাশে এমনই একটি বেদে বহরের দেখা মিলেছে। সেখানে প্রায় ৮টি পরিবার অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব পরিবারের জীবন অনেকটাই যাযাবর প্রকৃতির। কোনো এলাকায় কয়েক দিন বা কিছু সময় অবস্থান করার পর আবার তারা অন্য এলাকায় চলে যান। ফলে স্থায়ী ঘরবাড়ি, স্থায়ী কর্মসংস্থান কিংবা সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর সুযোগও অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হয় না।

বেদে বহরের সাথে আসা তরিকুল রহমান জানান, তাদের কেউ কেউ বানর নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে খেলা দেখান। এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে বর্তমানে ঘাটিনা ব্রিজের পাশে অবস্থান নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে যারা এসেছেন, তাদের বড় অংশের প্রধান পেশা সাপ ধরা ও সাপের খেলা দেখানো। বাপদাদার ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে এ যুগে এসে।

আগে তারা নৌকায় থাকতো কিন্তু সব সময় নদীতে পানি থাকে না। আবার নৌকার দামও বেড়ে গেছে। তাই তারা নৌকা ছেড়ে নদীর পাড়ে অথবা অন্যকোন ফাকা জায়গা অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলে কোনক্রমে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেদে পরিবারের শিশুদের শিক্ষা। এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করায় অনেক শিশুই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা শিক্ষার মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, ভ্রাম্যমান এসব পরিবারের শিশুদের জন্য চলমান বা বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া গেলে তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বেদে সম্প্রদায়ের জীবন কেবল বিনোদন বা সাপের খেলার সাথে সম্পর্কিত নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের একটি ভ্রাম্যমাণ জীবনধারা। তবে সময়ের সাথে মানুষের রুচি, চিকিৎসাব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসায় তাদের ঐতিহ্যগত অনেক পেশার আয়ও কমে এসেছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/183140