ঢাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ আজ শুরু হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধুমতি মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আগামীকাল শেষ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন এমপি।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এই কাজের ভিত্তি হচ্ছে-তথ্য সংগ্রহ। এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের তাই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের দায়িত্ব প্রশিক্ষকদের। আমরা বিশ্বাস করি, আন্তরিকতার সাথে প্রশিক্ষকবৃন্দ প্রশিক্ষণ গ্রহন করবেন এবং পরবর্ত্তীতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষকবৃন্দ যেহেতু সরকারের নিয়মিত স্টাফ। তাই আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশী। আগামী চার বছর ধরে আপনারা প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। শুধু প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়, মাঠ পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেও আপনাদেরকেই ভ‚মিকা পালন করতে হবে।
দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অর্থবহ হবে এবং পরবর্ত্তীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। বিগত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব সবাই অনুধাবন করেছেন। বর্তমান সরকার শপথ গ্রহনের মাত্র দশ দিনের মাথায় এই প্রকল্প কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পের পাইলটিং থেকে আমরা দিক নির্দেশনা পেয়েছি, সেই দিক নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত প্রশিক্ষণ শতভাগ সফল হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সর্বজনীন। এ দেশের দেড় কোটি পরিবারের কাছে স্বপ্ন্ পৌঁছে দেওয়ার কাজ এটি। এই কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারা অনেক গৌরবের। তাই ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ স্বচ্ছতার সাথে যথাযথভাবে হতে হবে। এই তথ্য সংগ্রহ শুধু ফ্যামিলি কার্ডের জন্যেই নয়। সংগৃহিত তথ্য ব্যবহার করে আমরা সমন্বিত একটি তথ্য ভান্ডার গড়ে তুলতে চাই। এই তথ্যের আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরকারের অন্য কোন সুবিধা প্রদান করা যায় কি না তাও আমরা বিবেচনা করছি। একই সাথে একই ব্যক্তির বারবার সুবিধা গ্রহন বা অপরাধ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও এই তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই সংগৃহিত তথ্য আমাদের জন্যে অনেক মূল্যবান।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।