মাঝ-আকাশে ইঞ্জিন বিকল, ১৮৬ আরোহী নিয়ে চেন্নাইয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের জরুরি অবতরণ

মাঝ-আকাশে ইঞ্জিন বিকল, ১৮৬ আরোহী নিয়ে চেন্নাইয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের জরুরি অবতরণ

মাঝ-আকাশে হুট করেই স্তব্ধ হয়ে যায় ২ নম্বর ইঞ্জিনটি। মুহূর্তের মধ্যে ভর করে এক চরম আতঙ্ক ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তবে পাইলটের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ১৮৬ জন আরোহী নিয়ে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। 

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দাগামী বোয়িং বা এয়ারবাসের বিশেষ এই আন্তর্জাতিক বিমানটি ভারতে চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পূর্ণমাত্রার জরুরি অবস্থার (ফুল ইমার্জেন্সি) মধ্য দিয়ে অত্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেলে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘এমএইচ১৫৬’ নম্বর ফ্লাইটটি এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ মডেলের বিমান দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল, যার নিবন্ধন নম্বর ‘৯এম-এমটিআই’। বিমানটিতে ক্রু ও যাত্রী মিলে মোট ১৮৬ জন আরোহী ছিলেন। আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ বিমানটির ২ নম্বর ইঞ্জিনে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা ও ব্যর্থতা দেখা দেয়।

এর পরপরই পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় ভারতীয় সময় বিকেল ৪টা বেজে ৭ মিনিটে চেন্নাই বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিমানটি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে চেন্নাইয়ের আকাশসীমায় পৌঁছানোর কথা ছিল এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শেষে বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে এটি রানওয়েতে স্পর্শ করে। অবতরণের পরপরই বিমানটিকে ৪৫ নম্বর বে-তে নিয়ে যাওয়া হয় 

এবং বিমানবন্দরে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা জরুরি উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অবস্থান নেয়।

ঘটনার পরপরই চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ফ্লাইট চলাকালীন বিমানের ২ নম্বর ইঞ্জিনটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে পথ পরিবর্তন করে চেন্নাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিজস্ব প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ দল উড়োজাহাজটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঠিক কী কারণে ইঞ্জিনে এমন বিভ্রাট ঘটল, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইঞ্জিন বিভ্রাটের মূল কারণ এবং আটকে পড়া ১৮৬ জন আরোহীকে কীভাবে তাদের গন্তব্যস্থল জেদ্দায় পৌঁছে দেওয়া হবে—সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182870