সাভারে এসবি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৮

সাভারে এসবি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৮

মফস্বল ডেস্ক : সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ। এই আটজনের পাশাপাশি  মো. শুকুর ও মো. রাকিব নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

ওসি সাইফুল জানিয়েছেন, র‌্যাব-৪, র‌্যাব-১০ এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। আটজনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক দুইজনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ওসি বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন র‌্যাব হেফাজতে রয়েছেন। এছাড়া ঘটনার সময় ব্যবহৃত সাদা কালারের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় গতকাল রবিবার আমিনবাজার থেকে প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন (৪৬) গতকাল সকালে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নিহত আলতাবের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামে। তিনি এসবি ঢাকার মালিবাগ জোনের এসআই ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায়। একই এলাকায় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলামের পোশাক কারখানা ‘এড্রইট ফ্যাশন’।

এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ওসি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে থেকে ঘটনার সূত্রপাত। গ্যারেজের সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আসামি জহরুলের সঙ্গে প্রথমে এক রিকশাচালকের ও পরে গ্যারেজমালিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের তর্ক হয়। ওসি জানান, এক পর্যায়ে আবুল কালামকে মারধর করেন জহরুল। সেসময় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এসআই আলতাব। ঘটনা দেখে মারধরে বাধা দিতে এগিয়ে যান তিনি। ততক্ষণে ফোন করে অনেককে ডেকে আনেন জহরুল। তারা চড়াও হন আলতাবের উপরেও। দৌড়ে ছেলের কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে ছিলেন তার ছোট ছেলে আরিফুল।

বাদীর অভিযোগ, আসামিরা সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানায় ঢুকে পড়েন। আলতাবকে লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয় ছেলে আরিফুলকেও। এরপর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে আড়াই লাখ টাকা লুট করে চলে যান আসামিরা। দুজনকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আলতাবকে মৃত ঘোষণা করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182778