যেভাবে নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

যেভাবে নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

নার্স প্র্যাকটিশনার (এনপি) হলেন উচ্চতর ডিগ্রি ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধিত একজন নার্স। যিনি চিকিৎসকের মতোই অনেকক্ষেত্রে স্বাধীন স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন। নার্স প্র্যাকটিশনার ধারণাটি উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার একটি অংশ। উন্নত দেশগুলোতে (ইউএসএ, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া) এই পেশাটি সুপ্রতিষ্ঠিত। সাধারণ নার্সদের তুলনায় তারা উচ্চতর ডিগ্রিধারী হন এবং স্বাধীনভাবে রোগীর রোগ নির্ণয়, টেস্টের রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও প্রেসক্রিপশন করার আইনি অধিকার রাখেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নার্স প্র্যাকটিশনার ধারণাটি এখনো প্রাথমিক বা বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে। এদেশের বিশাল জনসংখ্যা এবং চিকিৎসক সংকটের বাজারে তাদের মানবিক অবদান ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বাংলাদেশে স্বতন্ত্র ক্যাডার বা পদ হিসেবে নার্স প্র্যাকটিশনার লাইসেন্সিং বা প্র্যাকটিস আইন আলাদাভাবে তৈরি হয়নি। তবে নার্সিং শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই স্তরে উন্নীত করার জন্য মাস্টার্স ও বিশেষায়িত ডিগ্রি চালু করা হয়েছে।

নার্স প্র্যাকটিশনারদের প্রধান কাজ ও দায়িত্ব

  • রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: রোগীরা অসুস্থ হলে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা।
  • টেস্ট ও প্রেসক্রিপশন: ল্যাব টেস্ট, এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে দেওয়া, সেগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা লিখে দেওয়া।
  • রোগীর যত্ন ও পরামর্শ: রোগীদের সামগ্রিক যত্ন নেওয়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জীবনযাত্রার মান নিয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে শিক্ষা দেওয়া।
  • বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো: জটিল ক্ষেত্রে রোগীদের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো।

নার্স প্র্যাকটিশনারদের পড়াশোনা বা যোগ্যতা

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন সাধারণ নার্স থেকে অ্যাডভান্সড লেভেলে পৌঁছাতে হলে পর্যায়ক্রমিক এই পড়াশোনাগুলো করতে হয়:

বিএসসি ইন নার্সিং

এটি ৪ বছর মেয়াদি একটি বেসিক কোর্স। বিজ্ঞান বিভাগ (জীববিজ্ঞানসহ) থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। অথবা ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স কোর্স শেষ করে ২ বছরের ‘পোস্ট বেসিক বিএসসি’ ডিগ্রি নেওয়া যায়।

মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন নার্সিং (এমএসএস)

এটি মূলত নার্স প্র্যাকটিশনার হওয়ার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) অনুমোদিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং কলেজ থেকে এখন ২ বছর মেয়াদি এই স্নাতকোত্তর (এমএসএস) ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পিএইচডি বা ডক্টরেট (ডিএনপি)

বিশ্বজুড়ে নার্স প্র্যাকটিশনারদের জন্য ডক্টর অব নার্সিং প্র্যাকটিস (ডিএনপি) ডিগ্রি প্রাধান্য দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও এখন উচ্চতর গবেষণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পেশাদার লাইসেন্স ও কাজের অভিজ্ঞতা

শুধুমাত্র পড়াশোনাই শেষ কথা নয়, এর সাথে সাথে ক্লিনিক্যাল দক্ষতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক:

বিএনএমসি রেজিস্ট্রেশন

কোর্স শেষে অবশ্যই বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের সমন্বিত লাইসেন্সিং পরীক্ষায় পাস করে নিবন্ধিত বা রেজিস্টার্ড নার্স (আরএন) হতে হবে।

ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে মাস্টার্স (এমএসএন) কোর্সে ভর্তির জন্যই কমপক্ষে ২ বছরের বাস্তব ক্লিনিক্যাল কাজের অভিজ্ঞতা (নিবন্ধিত নার্স হিসেবে কোনো হাসপাতালে কাজের সার্টিফিকেট) প্রয়োজন হয়।

নার্স প্র্যাকটিশনারদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রসমূহ

নার্স প্র্যাকটিশনাররা সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নার্সরা সাধারণত নিচের ক্ষেত্রগুলোতে উচ্চতর ডিপ্লোমা বা মাস্টার্স করছেন:

  • কার্ডিয়াক নার্সিং
  • আইসিইউ অথবা সিসিইউ নার্সিং
  • পেডিয়াট্রিক নার্সিং (শিশু স্বাস্থ্য)
  • সাইকিয়াট্রিক নার্সিং (মানসিক স্বাস্থ্য)
  • মিডওয়াইফারি এবং গাইনি

নার্স প্র্যাকটিশনারদের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ

সরকারি ও বেসরকারি চাকরি

সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নার্সদের চাকরির সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষকতা ও প্রশাসন

নার্সিং ইনস্টিটিউট বা কলেজগুলোতে শিক্ষকতা এবং উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে প্রশাসনিক বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান

বিশ্বজুড়ে (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যে) দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপযুক্ত ভাষা দক্ষতা ও লাইসেন্সিং পরীক্ষার মাধ্যমে অনেকেই বাইরে ভালো ক্যারিয়ার গড়ছেন।

বিশেষায়িত ইউনিট

আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) এবং ইমার্জেন্সি বিভাগে বিশেষায়িত নার্স হিসেবে কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

নার্সিং গবেষক

স্বাস্থ্যখাত ও বিভিন্ন মেডিকেল রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে নার্সিং গবেষক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে।

পাবলিক হেলথ

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি।

হোম কেয়ার

রোগীদের বাড়িতে গিয়ে সেবা প্রদানের জন্য ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রদান করা যায়।

কোন দেশে নার্সদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?

বর্তমান বিশ্বে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রসারের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া এই দেশগুলোতে নার্সদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন দেশসমূহ

  • কানাডা: বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণের কারণে কানাডায় নার্সের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের (পিআর) সহজ সুযোগ পাওয়া যায়।
  • যুক্তরাজ্য (ইউকে): ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রচুর আন্তর্জাতিক নার্স নিয়োগ করে থাকে।
  • যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ): বিশাল স্বাস্থ্যসেবা খাত ও আধুনিক হাসপাতালের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেজিস্টার্ড নার্সের চাহিদা সবসময় সবচেয়ে বেশি থাকে।
  • জার্মানি: ইউরোপের এই দেশটিতে স্বাস্থ্যখাতে লাখ লাখ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। যার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে নার্সদের চাহিদা।
  • অস্ট্রেলিয়া: দেশটির দক্ষ পেশার তালিকায় নার্সিং পেশা সবসময় অগ্রগণ্য। এখানে আকর্ষণীয় বেতন ও উন্নত জীবনমান পাওয়া যায়।

সরকারি নার্সদের বেতন স্কেল কেমন?

বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ পদে চাকরির শুরুতে জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেড ধরা হয়। তবে বেতনের সাথে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের সমপরিমাণ বা নির্ধারিত হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। চাকরির মেয়াদ ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।

বেসরকারি নার্সদের বেতন কত?

বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালে নার্সদের মাসিক বেতন সাধারণত ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বড় ও করপোরেট হাসপাতাল কিংবা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ৪০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

নার্সিং পেশার প্রধান ৫টি স্তর বা ধাপ নিচে দেওয়া হলো

সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএনএ)

এটি নার্সিংয়ের প্রাথমিক স্তর। এরা রোগীদের প্রাত্যহিক কাজকর্মে (গোসল, খাওয়া, চলাফেরা) সাহায্য করেন এবং মৌলিক যত্ন নেন।

লাইসেন্সড প্র্যাকটিক্যাল নার্স (এলপিএন)

এরা ডাক্তার ও রেজিস্টার্ড নার্সদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের মূল ও জরুরি সেবা প্রদান করেন।

রেজিস্টার্ড নার্স (আরএন)

ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিধারী এই নার্সরা স্বাধীনভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন, ওষুধ প্রয়োগ করেন এবং অন্যান্য নার্সদের কাজের দেখভাল করেন।

অ্যাডভান্সড প্র্যাকটিস রেজিস্টার্ড নার্স (এপিআরএন)

উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্ত বিশেষায়িত নার্স; যারা রোগ নির্ণয় করতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসা দিতে পারেন।

ডক্টরাল লেভেল নার্স

পিএইচডি বা ডক্টরেট ডিগ্রিধারী নার্সরা সাধারণত নার্সিং শিক্ষা, অ্যাকাডেমিক গবেষণা এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বা নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে কাজ করেন।

নার্স প্র্যাকটিশনারদের মানবসেবা

নার্স প্র্যাকটিশনার বা উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সদের মানবসেবা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এক যুগান্তকারী ও অপরিহার্য ভূমিকা পালন করতে পারে। উন্নত বিশ্বে নার্স প্র্যাকটিশনাররা স্বাধীনভাবে রোগী দেখা, রোগ নির্ণয় এবং ওষুধ প্রেসক্রিপশন করার অধিকার রাখলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধারণাটি এখনো প্রাথমিক বা বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা এবং চিকিৎসক সংকটের বাজারে তাদের মানবিক অবদান ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ দেশের প্রেক্ষাপটে তাদের মানবসেবামূলক কাজের মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা

প্রাথমিক চিকিৎসা

বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের বড় একটি অংশ এখনো মানসম্মত চিকিৎসক সেবা থেকে বঞ্চিত। নার্স প্র্যাকটিশনাররা সেখানে সাধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ (উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস) ব্যবস্থাপনায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারেন।

কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা

গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে তারা প্রাথমিক স্তরের রোগীদের কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করেন।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা (মিডওয়াইফারি ও পেডিয়াট্রিক সেবা)

নিরাপদ প্রসব ও মাতৃস্বাস্থ্য

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং মিডওয়াইফরা গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবপরবর্তী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

নবজাতকের যত্ন

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ ও টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) তাদের অবদান সরাসরি মানবসেবার এক অনন্য নজির।

হাসপাতালের বিশেষায়িত সেবা

ক্রিটিক্যাল কেয়ার

বাংলাদেশের টারশিয়ারি বা বড় হাসপাতালগুলোর আইসিইউ, সিসিইউ কিংবা নবজাতকদের এনআইসিইউতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি অ্যাডভান্সড নার্সরাই রোগীর জীবন রক্ষায় সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সেবা প্রদান করেন।

জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ

জটিল রোগীদের সংকটকালীন মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়ে চলেছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং

বাংলাদেশের সাধারণ রোগীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সমর্থনের অভাব বোধ করেন। নার্স প্র্যাকটিশনাররা রোগীদের রোগ সম্পর্কিত ভয়ভীতি দূর করতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরম মমতায় কাউন্সেলিং সেবা দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নার্স প্র্যাকটিশনারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশে নার্স প্র্যাকটিশনারদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানবসেবা নিশ্চিত করার পথে কিছু বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে:

চ্যালেঞ্জের বিষয়, বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রভাব

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি

বাংলাদেশে নার্সদের স্বাধীনভাবে প্রেসক্রিপশন বা রোগ নির্ণয় করার আইনি অধিকার এখনো উন্নত বিশ্বের মতো পুরোপুরি চালু হয়নি।

তীব্র নার্স সংকট

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে ন্যূনতম ২ দশমিক ৮ জন নার্স থাকা উচিতদ; যেখানে বাংলাদেশে এই অনুপাত মাত্র ০.৬৬ জন।

উচ্চশিক্ষার অভাব

নার্স প্র্যাকটিশনার হতে এমএসসি বা ডক্টরেট ডিগ্রির প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে নার্সদের জন্য উচ্চতর ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

আমাদের সমাজে এখনো নার্সিংকে চিকিৎসকের কেবল একটি ‘সহায়ক পদ’ হিসেবে দেখা হয়। স্বাধীন পেশা বা দক্ষ সেবাদানকারী হিসেবে পূর্ণ মূল্যায়ন করা হয় না।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) অধীনে উন্নত ও বিশেষায়িত নার্স প্র্যাকটিশনার কোর্স চালু করা এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এটি করা গেলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা আমূল বদলে যাবে এবং মানবসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

বর্তমান ইতিবাচক পরিবর্তন ও সম্ভাবনা

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নার্সিং সেক্টরে কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে:

মর্যাদা বৃদ্ধি

সরকারি চাকরিতে নার্সদের ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। যা এই পেশার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষায়িত কোর্সের সূচনা

বর্তমানে বাংলাদেশে বিএসসি ইন নার্সিংয়ের পাশাপাশি আইসিইউ, সিসিইউ, কার্ডিয়াক এবং অনকোলজি নার্সিংয়ের ওপর বিশেষায়িত ডিপ্লোমা কোর্স চালু হয়েছে। যা নার্সদের প্র্যাকটিশনার লেভেলে উন্নীত হতে সাহায্য করছে।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় সুযোগ

বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে মিডল ইস্ট, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে ‘নার্স প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে উচ্চ বেতনে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাংলাদেশে বর্তমানে নার্সদের কাজের অভিজ্ঞতা যেমন কঠোর পরিশ্রম ও সীমাবদ্ধতায় ভরা, ঠিক তেমনি এটি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সম্ভাবনাময় একটি খাত।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182739