বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন রিকশা ভাড়া, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী
শহর প্রতিনিধি: ভাড়া নির্ধারণ না হওয়ার সুযোগে বগুড়া মহানগরে বাড়তি রিকশাভাড়া আদায় একটি নিত্যদিনের ঘটনায় দাঁড়িয়াছে। রিকশাচালকরা প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করেন। খারাপ আবহাওয়া, বৃষ্টি, তীব্র গরম বা শীত, রাস্তায় জ্যাম, রাস্তা ভাঙাচোরা-এসব তাদের কাছে অজুহাত থেকে ক্রমে অধিকারে পরিণত হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটি বা বিশেষ দিনেও একই চিত্র দেখা যায়। সকাল-বিকেলে যাতায়াতের চাপ বেশি থাকার সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মজীবী মানুষ রিকশাচালকদের কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েন।
আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে সন্তানদের স্কুল ছুটির অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকরা জানান, স্কুল সময়ে রিকশা পাওয়া কঠিন হওয়ায় এবং সময়মতো পৌঁছানোর তাগিদে চালকদের চাওয়া ভাড়াতেই যেতে বাধ্য হন তারা। রাস্তা খারাপ থাকা এলাকায় ভাড়া তুলনামূলক বেশি, আর বৃষ্টি বা প্রচণ্ড রোদ থাকলে চালকদের কার্যত পোয়াবারো অবস্থা তৈরি হয়।
শেরপুর রোডে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকদের চেম্বার থাকায় সেখানকার ভাড়াও অস্বাভাবিক হারে চাওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার, চিকিৎসকদের পরামর্শ ও ওষুধের সহজপ্রাপ্তির জন্য বগুড়ায় আসেন সিরাজগঞ্জ থেকে দুই-তিন মাস পরপরই। বড় ছেলে থাকেন মহানগরের মালতীনগর আর মেয়ে স্বামীর সাথে ভাড়া বাসায় থাকেন জহুরুলনগর।
দুই বাসাতেই যেতে হয় তাদের সাথে দেখা করতে। মালতিনগর যাওয়ার জন্য সহজে রিকশা পেয়ে যান ভাড়া তুলনামূলক সহনশীল হলেও বচসা বাধে জহুরুলনগরে যেতে। স্বাভাবিক সময়ে রিকশা চালকরা ভাড়া চান সড়ক ভাঙ্গাচোরা, ফিরতি যাত্রী না পাওয়াসহ নানা অজুহাতে, বৃষ্টি হলে তো তারা বাড়তি ভাড়া দিলেও যেতে চান না। রাতে আবার নিরাপত্তার অজুহাতে চান বাড়তি ভাড়া।
কলেজ শিক্ষার্থী সজল জানান, সাধারণত দিনে ৬০ টাকার ভাড়া বৃষ্টির অজুহাতে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে তার কাছে। অটোরিকশা যাত্রী আল আমিন ইসলাম জানান, সাতমাথা থেকে খান্দার সাধারণত ১০ টাকা ভাড়া। বৃষ্টির দিনে ইচ্ছামতো বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়।
সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর ঘর ভাড়া, খাদ্যপণ্যের মূল্য, গ্যারেজ ভাড়া ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে চালকরা নিজেরাই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা বা তদারকি না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ।
তবে চালকদের ভাষ্য, বৃষ্টির দিনে পরিবার ছেড়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় বলেই বাড়তি ভাড়া চাওয়া অন্যায় নয় বলে মনে করেন তারা। নিসচা বগুড়ার সভাপতি হাসান আলী আলাল আশা প্রকাশ করেন, সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে উভয়পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারিত হলে সমস্যার সমাধান হবে।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, অটো ও প্যাডেল রিকশাচালকদের লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম চলমান, যার সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে ভাড়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182731