গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তায় দু’দিনে বিলীন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দুইদিনে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরবর্তী আরও দুই শতাধিক পরিবার। গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সিংগীজানি ও লালচামার এলাকায় অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙনে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়।
এর মধ্যে ১২ পরিবারের সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি এবং কয়েকটি পরিবারের ঘরের অংশবিশেষ নদীতে চলে যায়। শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বসতবাড়ি ও বাপ-দাদার ভিটামাটি নদীতে বিলীন হয়ে রাস্তার পাশে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে তারা।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি কমলেও বুধবার রাত থেকে পানি কিছুটা বাড়তে শুরু করে। এরপর হঠাৎ করেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় অন্তত চার দফায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বসতঘরের পাশাপাশি গাছপালা, হাঁস-মুরগির খামার ও অন্যান্য মালামালও নদীতে চলে গেছে। অনেকে ঘর সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট চরাঞ্চলের শিশুদের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয়রা আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার পরদিন ১৯ আগস্ট ভাঙন ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয় রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এমনকি গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
নদী ভাঙনের খবর পেয়ে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
ওই দিন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জামায়াতের পক্ষ থেকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান শুক্রবার বিকেলে নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, নির্দেশনা মোতাবেক ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন এমপি মাজেদুর রহমান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জিও ব্যাগ ফেলা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182625