বগুড়ার দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই পদে ২ টেকনোলজিস্ট : কার্যক্রম ব্যাহত
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : দুপচাঁচিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে দু’জনের দ্বন্দ্বে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া, স্টোর রুম দখল করা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এতে শিশুদের টিকা দান, হাম মব অব ও র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রদানে বিঘ্নসহ অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদ। রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে কর্মরত রয়েছেন।
গত ২৪ আগস্ট সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর মহাপরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন -১) ডাক্তার মো: কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরীত আদেশে তার পদটি শূণ্য দেখিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সাহিনুর ইসলামকে নিজ বেতনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) এর শূণ্য পদে যোগদান করার আদেশ প্রদান করেন।
এর পরের দিনই গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ খুরশীদ আলম স্বাক্ষরীত পৃথক এক পত্রে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) রফিকুল ইসলামকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) শূণ্য পদে যোগদানের আদেশ প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৩ বছর যাবৎ স্ট্রোক জনিত রোগে আক্রান্ত। স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময় তাকে সিলেট বিভাগে বদলী করা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সে আদেশটি ব্যাতিল করা হয়। সেই থেকে অদ্যবধি নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করে আসছেন।
তার পদের পদটি শূণ্য দেখিয়ে স্বাস্থ্য সহকারি সাহিনুর ইসলামকে ঐপদে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়। উক্ত আদেশটি সংশোধনের জন্য গত ৩০ আগস্ট তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ২ দিনের ছুটি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে সে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগেই তার তালাবদ্ধ অফিস কক্ষে আরো একটি তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে তার অফিস কক্ষে বসে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নবাগত ইপিআই সাহিনুর ইসলাম স্টোর রুম দখল করে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মূল্যবান ভ্যাকসিন বিতরণ করছে। দায়িত্ব বুঝে নেওয়া ছাড়া স্টোর রুমের মূল্যবান ভ্যাকসিন বিতরণের কোনো এখতিয়ার তার নেই। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
নবাগত ইপিআই সাহিনুর ইসলাম জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাছে লিখিতভাবে যোগদান পত্র জমা দিয়েছেন। এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বর্তমানে উপজেলায় শিশুদের ১২টি রোগের টিকা দান, হাম মব অফ এর টিকাদানের পাশাপাশি র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে একই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন ইপিআই দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রশাসনিক শৃংখলা বিঘ্ন ঘটছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মেহেদী হাসান জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) রফিকুল ইসলামকে বদলি ও স্বাস্থ্য সহকারী সাহিনুর ইসলামকে নিজ বেতনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) এর যোগদান করার দু’টি আদেশ পত্র পেয়েছেন। গত ২৯ আগস্ট শনিবার ইপিআই রফিকুল ইসলামকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। ইপিআই সাহিনুর ইসলামের যোগদান পত্র গ্রহণ করেছেন।
ইপিআই রফিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকার চেষ্টা করছেন। এবং উক্ত আদেশ সংশোধনের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছেন। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বিভাগে কাজকর্মে সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে।
দুই একদিনের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য এ সংক্রান্তে গত ৩০ আগস্ট রোববার দৈনিক করতোয়ার ৭ম পাতায় “দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই পদে বদলি নিয়ে উত্তেজনা” শিরনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182620