বগুড়ায় গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত

বগুড়ায় গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় জমি ও আমবাগানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মো. মোকসেদ আলী (৩৮) নামে এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী এলাকায় জারা কার হাউজের বিপরীত পাশে এই ঘটনা ঘটে। হামলার আগে হামলাকারীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এবং আশপাশের লোকজনকে হটিয়ে দিতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

গুরুতর আহত মোকসেদ আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বারোপুর-নামুজা সড়ক এলাকায় প্রায় ৩২ বিঘা আয়তনের একটি আমবাগানের মালিকানা ও ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে মোকসেদ আলীকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল মাটিডালী এলাকায় গিয়ে তারা প্রথমে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আশপাশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে সরে গেলে দুর্বৃত্তরা মোকসেদ আলীকে একা পেয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত মোকসেদ আলী মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকার মো. হায়দার আলীর ছেলে।

তার প্রতিবেশী মো. সাব্বির ইসলাম জানান, মোকসেদ পঞ্চগড়ে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করেন। তিনি মাঝে মাঝে এলাকায় এসে দু-একদিন থেকে আবার চলে যান। এলাকায় তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কারও কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল কি না, তা তাদের জানা নেই। এ ঘটনার পর বগুড়া জেলা পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি ইকবাল বাহার এবং র‌্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা, দুই জোড়া জুতা ও কিছু লাঠিসোঁটা জব্দ করেছে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হান উদ্দিন মোরাদ বলেন, “রাত পৌনে ১০টার দিকে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার পর মোকসেদকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা দুটি গুলির খোসা প্রাথমিকভাবে ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বোরের রিভলবার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে অস্ত্রটি থানা থেকে লুণ্ঠিত কোনো অস্ত্র নয়। তিনি আরও জানান, আমবাগানকেন্দ্রিক পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলায় কেবল একজনই আহত হয়েছেন। আহত মোকসেদ আলীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৬টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি বলে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182607