বগুড়ার সোনাতলায় মৎস্য চাষ প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) একটি মাছের প্রকল্প নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এলাকাবাসি ও থানা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ সংলগ্ন সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যায় ১৭ নং মৎস্য চাষ প্রকল্পটি পাকুল্যা গ্রামের মৃত আতোয়ার হোসেন টুকু সরকারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম মাছ চাষ করে।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ওই প্রকল্পে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এরপর স্থানীয় মৎস্য চাষী সমিতির সদস্যরা ওই মাছের প্রকল্পে প্রায় ৭৩ দিন আগে মাছ অবমুক্ত করে বলে দাবি করে আসছে। সেই মাছের প্রজেক্টে আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সমিতির সদস্যরা জাল ও জেলে নামালে শহিদুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি বগুড়া শহর থেকে বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে মাছের প্রকল্পে মাছ ধরার চেষ্টা করে।
এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এই নিয়ে ওই এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিষ্ট সরকারের শাসনামলে উক্ত শহিদুল ইসলাম একচেটিয়াভাবে মাছ চাষ করে আসছিলো। তার প্রভাবে কেউ ওই প্রজেক্ট ইজারা নেয়ার সাহস রাখেনি।
এ বিষয়ে ওই সমিতির সভাপতি জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও পাকুল্যা ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম তার ছেড়ে দেওয়া মাছ তুলে নিয়ে চলে যায়। এরপর ৭৩ দিন আগে আমরা সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করি।
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মাছের প্রজেক্টে গ্যাস দেখা দিলে আমরা স্থানীয় মৎস্যজীবিদের মাধ্যমে ওই প্রকল্পে জেলে ও জাল নামাই। এসময় শহিদুলের লোকজন আমাদের টার্গেট করে প্রকল্পটি ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজনার কথা স্বীকার করে বলেন, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এরপর এক পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে যেতে বলা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182479