বৈষম্যের শিকার বগুড়ার ক্রিকেট ভবিষ্যৎ, বিসিবি’র হস্তক্ষেপ কামনা
স্পোর্টস রিপোর্ট: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বগুড়ার অবদান অনস্বীকার্য। শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের মতো ভেন্যু উপহার দেওয়া এই জেলা থেকে উঠে এসেছেন অনেক জাতীয় তারকা। কিন্তু গত ১৭ বছর ধরে এই জেলা বঞ্চনার শিকার হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানেও হচ্ছে বৈসম্যের শিকার। সর্বশেষ উদাহরণ হলো বিসিবি-র নতুন উদ্যোগ ‘মাইনর ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ (মাইনর এনসিএল)।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খানের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে ক্রিকেট মহলে। তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিতে এবং ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করতে এই লিগ চালু করা হয়েছে। তবে, মাইনর এনসিএল-এর জন্য প্রাথমিক দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া বগুড়ার উদীয়মান খেলোয়াড়দের হতাশ করেছে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত অধিকাংশ খেলোয়াড়ই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার। অথচ বগুড়ার অনেক প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়, যারা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করেছেন, তাদের জায়গা হয়নি এই দলে।
বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের সদস্য অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দল ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়, স্কুল ক্রিকেটে পাকিস্তান সফরকারী, অনূর্ধ্ব-১৭ ১৫ জাতীয় দল সদস্য এবং ঢাকা প্রিমিয়ার, প্রথম বিভাগ এবং দ্বিতীয় বিভাগ লীগে খেলা খেলোয়াড়।
বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, তালিকাভূক্ত ৪১ জনের মধ্যে ২৩ জনই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার। এমনকি ফিটনেস টেস্টে পাস না করেও কেউ কেউ একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচকরা পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং নিজেদের জেলার বাইরে অন্য জেলার খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে নারাজ। এই ধরনের মানসিকতা বগুড়ার ক্রিকেট প্রতিভাদের বড় ধরণের বঞ্চনা।
যদি এই ধারা চলতে থাকে তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাথমিক ক্যাম্পে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া যোগ্যতার প্রমাণ দিলে তাদের খেলার সুযোগ দেওয়া হোক, এই দাবিও জানিয়েছে তারা। বগুড়ার এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে বিসিবি কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182294