বগুড়ায় সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল ধান, সিদ্ধ চালের অগ্রগতিও শতভাগ

বগুড়ায় সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল ধান, সিদ্ধ চালের অগ্রগতিও শতভাগ

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় ২০২৬ মৌসুমের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান সফলতা অর্জন করেছে। গেল ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় ধান সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি সংগ্রহ হয়েছে। সরকারি লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ধান সংগ্রহের পর চুক্তিভুক্ত মিলগুলোর মাধ্যমে সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বগুড়া জেলা থেকে প্রাথমিকভাবে ১৭ হাজার ৭৮১ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহের মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাম্পার ফলন এবং কৃষকদের ব্যাপক সাড়ার কারণে পরবর্তীসময়ে এই লক্ষ্যমাত্রা ১২.৬০ হাজার মেট্রিকটন বাড়িয়ে ২৯ হাজার ৭৮১.৬০ মেট্রিকটন পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

জেলায় বাড়তি লক্ষ্যমাত্রাসহ গত মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত ধান সংগ্রহের পরিমাণও ২৯ হাজার ৭৮১.৬০ মেট্রিকটন। অর্থাৎ, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ শতাংশ, যা পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ সাফল্য।

বিগত কয়েক বছর চাল সংগ্রহে লক্ষ্য পূরণ না হলেও গত দুই-তিন বছর ধরে চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বগুড়া জেলা খাদ্য বিভাগ শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে রয়েছে। চলতি মৌসুমে সিদ্ধ চালের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ হাজার ৬০২ মেট্রিকটন।

অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় আরও ৫ হাজার ৫২৩.২২ মেট্রিকটন। এতে সমন্বিত লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৭৮ হাজাার ১২৫.২২ মেট্রিকটনে। গত মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত ৬৫টি অটো এবং ৭২৩টি হাষ্কিং মিলসহ মোট ৭৮৮টি চুক্তিকৃত চালকল থেকে সর্বমোট ৭২ হাজার ৬০২.২২ মেট্রিকটন সিদ্ধ চাল সংগৃহীত হয়েছে, যা মূল লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ এবং বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ।

চাল সংগ্রহের বেশিরভাগ যোগান এসেছে অটোরাইস মিলগুলো থেকে, যার পরিমাণ ৫১ হাজার ৬২৪.৮৫ মেট্রিকটন, পাশাপাশি হাষ্কিং মিলগুলো থেকেও এসেছে ২০ হাজার ৯৭৭.১৫ মেট্রিকটন চাল। অন্যদিকে, আতপ চাল সংগ্রহের নির্ধারিত ৩ হাজার ৮১১ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ হাজার ৭৬৪.৯৪ মেট্রিকটন সংগৃহীত হয়েছে, যা অর্জনের হিসেবে ৯৯ শতাংশ।

চলতি বছর বোরো ধান-চাল মৌসুমে ধানের বাজারমূল্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার প্রতি কেজি ধানের জন্য ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চালের জন্য ৪৯ টাকা এবং আতপ চালের জন্য ৪৮ টাকা সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করে। মে থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযানে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর, দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলায় সম্পূর্ণ আধুনিক ‘ডজিটাল চাল সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার’ এবং সরাসরি কৃৃষকদের যুক্ত করতে ‘কৃষকের অ্যাপস’ এর মাধ্যমে ধান কেনা হয়। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রস্তুতকৃত নিবন্ধিত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে সরকারি গুদামে সরাসরি ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা করায় প্রকৃত কৃষকগণ উপকৃত হয়েছেন।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইউসুফ আলী জানান, খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকি এবং বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বোরো ২০২৬-এর এই চাল-ধান সংগ্রহ অভিযান সফলতার মুখ দেখেছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি মজুদ শক্তিশালী করতে বগুড়া জেলার এই উচ্চ অর্জনের হার জাতীয় পর্যায়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182254