৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত মানুষ আমপাতা পাতা চিবিয়ে খেয়েছে: রিজভী
১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মানুষ আমগাছের পাতা, কলাগাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে যেন আর কেউ পরাধীন করতে না পারে, কেউ যেন আমাদের লাল চোখ দেখাতে না পারে। কোনো আগ্রাসী শক্তি যেন এই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। এজন্য এমন একটি প্রতিষ্ঠান, এমন একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে হবে, যার প্রতিটি দেশপ্রেমিক নেতাকর্মী আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র যেটা জিয়াউর রহমান আবার চালু করেছিলেন, সেটিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। এই দেশপ্রেমিক নেতাকে কেন হত্যা করা হলো? কারণ তিনি জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তিনি কোনো প্রভুর কথায় চলতে চাননি, কোনো প্রভুর কথা শুনতে চাননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান যে কাজগুলো করেছিলেন, যারা আজ তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন, সেই কাজগুলো কি আপনারা করতে পেরেছেন? আমাদের প্রধান নদী পদ্মায় ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের ন্যার্য পানির হিস্যা দেয় না পাশ্ববর্তী দেশ। এটা নিয়ে জিয়াউর রহমান সংগ্রাম করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক দরবারে, জাতিসংঘে পানির দাবি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত একটি দেশ। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মানুষ আমগাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছেন, কলাগাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছেন। ১৯৭৪ সালের সেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দেশকে জিয়াউর রহমান আত্মনির্ভরশীল দেশ, খাদ্য উৎপাদনকারী দেশ এবং খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এজন্য আপনারা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছেন। কোনো প্রভুর কথা শোনেননি। কারও নির্দেশে চলেননি। তার প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী দেশগুলোতে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে পানির সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করে শুকনো মৌসুমে সেই পানি দিয়ে চাষাবাদ হতো, মাছ চাষ হতো। একসময় যে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, সেই দেশকে জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানির দেশে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182220