হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ায় বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন? করণীয় কী?

হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ায় বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন? করণীয় কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক : হঠাৎ ওজন বেড়ে গেলে অনেকেই আশপাশের মানুষের কটূক্তি, হাসাহাসি বা নানা ধরনের মন্তব্যের শিকার হন। কেউ হয়তো বলে, “অনেক মোটা হয়ে গেছ!”, “আগে তো সুন্দর ছিলে!”, আবার কেউ মজা করার নামে এমন কথা বলে যা ভেতর থেকে একজন মানুষকে ভেঙে দিতে পারে।

কিন্তু মনে রাখবেন—কারও শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কারও নেই। আপনার ওজন আপনার মূল্য নির্ধারণ করে না।

১. প্রথমেই বুঝুন—বুলিং আপনার দোষ নয়
কেউ আপনার শরীর নিয়ে ঠাট্টা করলে সেটিকে নিজের ব্যর্থতা মনে করবেন না। শরীরের ওজন বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, মানসিক চাপ, জীবনযাত্রার পরিবর্তনসহ নানা বিষয় এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

তাই “আমি মোটা হয়ে গেছি, তাই আমাকে অপমান করা স্বাভাবিক”—এমন চিন্তা একদমই করবেন না।

২. অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ করুন
সব সময় চুপ করে থাকার প্রয়োজন নেই। শান্তভাবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলতে পারেন—

“আমার শরীর নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য আমার ভালো লাগে না। দয়া করে এভাবে কথা বলবেন না।”

“আমার ওজন নিয়ে আলোচনা না করে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলি।”

আপনার সীমা স্পষ্ট করে দেওয়া দুর্বলতা নয়; বরং আত্মসম্মানের পরিচয়।

৩. নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় এমন শরীর বা জীবনযাত্রা দেখা যায়, যার সঙ্গে নিজের তুলনা করে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। মনে রাখবেন, প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা এবং সবার ওজন একই রকম হওয়ার দরকার নেই।

আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থ থাকা, শুধু অন্যের চোখে “পাতলা” হওয়া নয়।

৪. স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা থাকলে কারণ খুঁজে দেখুন

যদি অল্প সময়ের মধ্যে আপনার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং আপনি কারণ বুঝতে না পারেন, তাহলে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। বিশেষ করে ওজন বাড়ার সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

তবে শুধু অন্যের কথায় আতঙ্কিত হয়ে হঠাৎ না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ব্যায়াম করা বা নিজের ইচ্ছায় ওজন কমানোর ওষুধ নেওয়া ঠিক নয়।


হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?


হাইপোথাইরয়েডিজম

হাইপোথাইরয়েডিজম একটি আন্ডারঅ্যাক্টিভ থাইরয়েড গ্রন্থি। এটি আপনার বিপাককে ধীর করে ফেলতে পারে। এ জন্য, বিশ্রামের সময় শরীর থেকে কম ক্যালোরি ঝরে। যা ওজন বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে শরীরে চর্বি জমে। যার ফলে ওজন বাড়তে পারে। আন্ডারঅ্যাক্টিভ থাইরয়েডযুক্ত রোগীরা তাদের ক্ষুধায় পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।  এক সময় তারা বেশি খেতে শুরু করে।  ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে।

হার্ট, কিডনি বা লিভারের রোগ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে শরীর তরল পদার্থ ধরে রাখে। এর ফলে হঠাৎ করে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। কিডনি বা লিভারের অসুখের কারণেও এমনটা হয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182097