শিক্ষায় বরাদ্দ ৫ শতাংশে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষায় বরাদ্দ ৫ শতাংশে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী

বর্তমানে শিক্ষায় বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে একটি করে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)  খুলনা প্রকৗশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

এসময় এহসানুল হক মিলন বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল।

সে সময় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার ভাষায়, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে তাদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংসহ একাধিক বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও দেশে বিদ্যমান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স থাকা জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় চালু করা প্রয়োজন। এআই কোর্স চালুর আবেদন ইউজিসিতে দুই বছর ধরে আটকে থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধু সুন্দর অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না; এ বিনিয়োগের যথাযথ ফলও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় চাকরি করছেন, তাদের কর্মজীবনের অবস্থান কী- অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, মেধা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করতে হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/182073