তিন গোল খেয়ে চেলসির হয়ে অভিষেক এমি মার্তিনেজের

তিন গোল খেয়ে চেলসির হয়ে অভিষেক এমি মার্তিনেজের

স্পোর্টস ডেস্ক : চুক্তির কাগজে সইয়ের কালি তখনও হয়তো পুরোপুরি শুকায়নি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে অ্যাস্টন ভিলা থেকে লন্ডনে পা রাখা। কোনো অনুশীলন নেই, সতীর্থদের সঙ্গে নেই ধাতস্থ হওয়ার পর্যাপ্ত সময়। অথচ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির জার্সিতে গ্লাভস হাতে তিনি সোজা নেমে পড়লেন মাঠে। চেলসি সমর্থকেরা ভেবেছিলেন, পোস্টের নিচে আর্জেন্টিনার এই বাজপাখির উপস্থিতিই হয়তো রক্ষণের সব ধাঁধার শেষ উত্তর। উত্তর মিলল ঠিকই, তবে তা ৭ গোলের এক পাগলাটে নাটকের মধ্য দিয়ে। যেখানে ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির জয় ৪-৩ গোলে।

অভিষেকটা জয়ে রঙিন হলো মার্তিনেজের, কিন্তু একটা গোলকিপারের স্বস্তি কি আর ৪-৩ গোলের জয় দিয়ে পুরোপুরি মাপা যায়? স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে একটার পর একটা বল যখন জালে জড়াল, মার্তিনেজের চোখ-মুখে তখন অসন্তোষের মিশেল। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে তার মুখের হাসিটা তাই যেমন ছিল ৩ পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দের, তেমনি কপালে তিন গোল খাওয়ার কিছুটা অস্বস্তির ভাজও হয়তো ছিল।

ম্যাচ শুরুর মিনিট চারেকের মাথায় রোমেও লাভিয়া যখন ব্রাইটনের জালের ভেতর বল ঠেলে দিয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নিলেন, গ্যালারির গর্জন তখন মার্তিনেজকে হয়তো নতুন ঘর চেনার সুযোগ দিচ্ছিল। সেখান থেকে ৪ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান ২-০ করেন পেদ্রো নেতো। চেলসি তখন উড়ছে। সাবেক ক্লাব ব্রাইটনের সমর্থকদের দুয়োর জবাবে জবাব দিতে দেরি করেননি জোয়াও পেদ্রো, বক্সে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ৩২ মিনিটে চেলসিকে এনে দেন ৩-০ গোলের এক লিড।

কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কখনো একপেশে গল্পের জন্য স্ক্রিপ্ট লেখে না। ৩ গোল হজম করেও হাল ছাড়েনি ব্রাইটন। ৩৫ মিনিটে মার্তিনেজের প্রথম বড় পরীক্ষা। ব্রাইটনের কস্তুলাসকে আটকাতে দ্রুতই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু ফিরতি বলে মালিক ইয়ালকুয়ের কোনাকুনি রকেট শট মার্তিনেজের কোনো সুযোগ না দিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ব্রাইটনের জার্সিতে প্রথমবার একাদশে নেমে ব্যবধান ৩-১ করলেন এই তরুণ। 

দ্বিতীয়ার্ধের গল্পটা আরও বেশি রোমাঞ্চকর। ৬৩ মিনিটে গ্রসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দিলেন সেই জোয়াও পেদ্রো। ৩-২! এরপর তো ব্রাইটনের আক্রমণের ঝড় সামলাতে মার্তিনেজকে হতে হলো মহাব্যস্ত। বসকাকলির নিচু শট কিংবা গোমেজের হেড আটকে দিয়ে পোস্টের নিচে যেন লড়াই করছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। দর্শকদের দিকে হাত উঁচিয়ে গর্জে উঠে হুঙ্কারও দিলেন, যেন সতীর্থদের ঘুম ভাঙাতে চাইলেন।

সেই ঘুমে জাগরণ আনলেন কোল পালমার। ৭৪ মিনিটে একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ৪-২ করলেন ইংলিশ এই তরুণ তারকা। আর তাতেই উল্লাসে শূন্যে লাফিয়ে উঠলেন চেলসি কোচ জাবি আলোনসো। তবে নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক সামলাতে ব্যর্থ চেলসি রক্ষণকে শাস্তি দিয়ে দূরহ কোণ থেকে অসাধারণ হেডে নিজের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন প্যাসকাল গ্রস। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানের এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আলোনসোর দল। 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181913