ঢাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত শিক্ষক রনজিলার দাফন সম্পন্ন

ঢাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত শিক্ষক রনজিলার দাফন সম্পন্ন

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারানো স্কুল শিক্ষিকা বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মরদেহ তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থলে নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বাদ জোহর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টায় তার নিজ বাড়ীতে দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বামীর বাড়ীতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ে মরদেহ পৌঁছালে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গতকাল শনিবার চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার ঘটনায় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রনজিলা পারভীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার মধ্যরাতে তার মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছায়।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে মরদেহ নেওয়া হয় বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণে। শেষবারের মতো প্রিয় শিক্ষিকাকে দেখতে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। রনজিলা পারভীন যে চেয়ারটিতে বসে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের নানা বিষয় নিয়ে ভাবতেন, সেই চেয়ারটিই তার অনুপস্থিতির যেন নীরব সাক্ষী হয়ে থাকলো।

বাদ জোহর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। রনজিলা পারভীন তার কর্মজীবনে প্রায় ৩৮ বছর এই বিদ্যালয়ে কাটিয়েছেন। যে বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতেন, মৃত্যুর পর সেই বিদ্যালয়েই শেষবারের মতো ফিরলেন তবে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘ম্যাডাম আমাদের খুব ভালোবাসতেন। সব সময় পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। আমরা কখনো ভাবিনি ম্যাডামকে এভাবে শেষবারের মতো দেখতে হবে। তিনি আর কোনো দিন আমাদের ক্লাসে আসবেন না এটা ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে। আরেক শিক্ষার্থী রবিউল আলম বলে, ম্যাডাম আমাদের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন।

কোনো ভুল করলে বুঝিয়ে দিতেন। ভালোভাবে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিতেন। আজ ম্যাডামের মরদেহ দেখে বিশ্বাস করতে পারছি না, তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। রনজিলা পারভীনের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, তার বোন চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কে জানত চিকিৎসা করাতে গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে। একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

নিহত শিক্ষিকার মেয়ে রাইশা আকতারও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন। গাবতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষক হিসেবে রনজিলা পারভীন ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও নিবেদিত প্রাণ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত।

প্রথম জানাজা শেষে রনজিলা পারভীনের মরদেহ নেওয়া হয় তার স্বামীর গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে বেলা ৫টায় বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী বাদী হয়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181874