দিনাজপুরের দশমাইলে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হচ্ছে
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার দশমাইলে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে বসে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম কলার পাইকারি হাট। এই হাটে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার কাঁচা কলা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ট্রাকে করে যা পৌছে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, জেলার কাহারোল উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর, বোচাগঞ্জ এবং পার্শ্ববতী ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কলা চাষের উপযোগী জমি রয়েছে।
চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া এবং চাহিদা থাকায় এবার জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত কলা চাষ হয়েছে। কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে কাহারোল উপজেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে কলাচাষ হয়েছে। যেখানে গত বছর কলা চাষ হয়েছিল ৩৩৫ হেক্টর জমিতে।
এ বছর উপজেলায় কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল মূল্য পাওয়ায় বেশ খুশি কৃষকরা। কাহারোল উপজেলার গুড়নুরপুর গ্রামের কলাচাষি নুরুল ইসলাম লাইজু জানান, তিনি এবার ৫২ শতক জমিতে কলা চাষ করেছেন। দশ মাইল কলার হাটে একশ’ কলার কাঁদি এনে ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
তার কলার জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার অধিক কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই গ্রামের কলাচাষি আব্দুল আহাদ বলেন, প্রতিটি কলার কাঁদি ৬৯০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। বাজারে এরকম দাম পাওয়া গেলে ভালোই লাভবান হওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা থেকে আগত কলা ব্যবসায়ী মো. নিয়ামুল ইসলাম জানান, ভালো মানের কলার দাম একটু বেশি। তিনি প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ট্রাক কাঁচা কলা ক্রয় করে ঢাকা পাঠাচ্ছেন। দশ মাইল কলার হাটের শ্রমিক সাজ্জাদ আলী জানান, এই হাটে প্রতিদিন ট্রাক লোড দিয়ে একজন শ্রমিক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতে পারেন। এখানে প্রতিদিন কয়েকশ’ শ্রমিক কলার ট্রাক লোড করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরে অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা উন্নত জাতের মেহেরসাগর, মালভোগ, চিনিচাম্পা ও সবরি কলা চাষে আগ্রহ বেশি বেড়েছে। এজন্য কৃষকদের কলা চাষে কৃষি বিভাগ নিয়মিত সব ধরণের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181600