নেত্রকোনায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সি এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন প্রধান আসামির ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।
তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামির ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে যাওয়ার পর এ অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে সিআইডি গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ১১ বছর বয়সী শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরে গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তপর্ব শেষ হলো। এখন আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে যাবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181551