বগুড়ার শেরপুরে নৌকা বাইচের মেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়ায় নৌকা বাইচ মেলাকে কেন্দ্র করে হামলা, পক্ষপাতিত্ব ও অবাধ চাঁদাবাজির অভিযোগের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হীরা মাস্টারসহ উভয় পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বুধবার দুপুরে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। আহত হীরা মাস্টার চোমরপাথালিয়া গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, গত চার দিনে মেলাকে কেন্দ্র করে একাধিক মারামারির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বুধবার দুপুরে মির্জাপুর ও বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দারা চোমরপাথালিয়া গ্রামে শালিসি বৈঠকে অংশ নিতে যান। বৈঠকে মেলা কমিটির সভাপতি সেলিম উপস্থিত থাকলেও সেক্রেটারি হিরাসহ হামলাকারিরা অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তীসময়ে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যারা অভিযুক্ত সেই ব্যাক্তিরা নেই, তাই মেলা শেষে বসা হবে। পরে বিচারপ্রার্থীরা মেলা কমিটির সেক্রেটারী হিরাসহ অভিযুক্ত সদস্যদের মেলা প্রাঙ্গণের দোকানগুলোতে চাঁদা তুলতে দেখতে পেয়ে শালিস বৈঠকের দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে সুঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন জিহাদ বলেন, আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ শালিস বৈঠকে মেলা কমিটির সেক্রেটারী হিরাসহ অভিযুক্তরা উপস্থিত ছিল না। যার ফলে শালিস বৈঠকে বাতিল হয়েছে। কিন্ত শুনতে পেলাম হিরা মেলার মধ্যেই ছিল। কেন শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিল এখানে প্রশ্ন থেকে যায়। তারপর এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা করে দিতে হবে। তাছাড়া পওে ঘটনা বড় হতেই থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার বিকেলে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালক ও ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর নির্মম হামলা চালায় মেলা কমিটির লাঠিয়াল বাহিনী।
ওই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া গত ২২ আগস্ট (শনিবার) নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ‘বিজয় নিশান-১’ ও ‘বিজয় নিশান-২ (হুরুম)’ নামের দুটি প্রতিযোগী নৌকা মেলা বর্জন করে চলে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে মেলাটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা কমিটির সভাপতি সেলিম বলেন, মেলাতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল।শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, মারামারির খবর পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181484