বাইপাস সার্জারি ইউনিট চালু হলেই বগুড়ায় হৃদরোগ চিকিৎসায় স্বয়ংসম্পন্ন হবে শজিমেক হাসপাতাল
স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল। তবে আধুনিক সব চিকিৎসাসেবা থাকলেও হৃদরোগের জটিল চিকিৎসায় এখনো রয়ে গেছে বড় এক শূন্যতা। হাসপাতালটিতে পেসমেকার স্থাপন কিংবা এনজিওগ্রামের মতো জীবনরক্ষাকারী সেবা চালু থাকলেও মেলেনি বহুল কাঙ্খিত ‘বাইপাস সার্জারি ইউনিট’।
ফলে জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকামুখী হতে হয়, যা অনেক সময় রোগীর জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অবিলম্বে এই হাসপাতালে বাইপাস সার্জারি ইউনিট চালু করা হলে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব সাধিত হবে এবং এই অঞ্চল হৃদরোগ চিকিৎসায় পুরোপুরি স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করবে।
উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার আস্থার প্রতীক শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়া জেলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার মূল ভরসা । ১৯৯২ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য নাম।
শুরুতে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সাথে যৌথ কার্যক্রমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও, ২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে ছিলিমপুর এলাকায় সুবিশাল আধুনিক ক্যাম্পাসে কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামানুসারে পরিচালিত হয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
প্রায় ৪০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসে রয়েছে, একটি সুদৃশ্য ও আধুনিক হাসপাতাল ভবন, মানসম্মত একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কোয়ার্টার, কেন্দ্রীয় মসজিদসহ নান্দনিক পরিবেশ, শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত এই প্রতিষ্ঠানে ৫ বছর মেয়াদী এমবিবিএস কোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং, ডিপ্লোমা এবং উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।
তৃতীয় পর্যায়ের এই চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে শয্যা সংখ্যা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। হাসপাতালের বর্তমান সেবাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশেষায়িত বিভাগসমূহ হলো কার্ডিওলজি, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অবসটেট্রিক্স, অর্থোপেডিক্স, নাক-কান-গলা, চক্ষু, পেডিয়াট্রিক্স, ইউরোলজি এবং নেফ্রোলজি।
২৪ ঘণ্টার জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, ডায়ালিসিস ইউনিট এবং সিটি স্ক্যানসহ আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সুবিধা রয়েছে এই হাসপাতালে। বর্তমানে হাসপাতালে এনজিওগ্রাম ও পেসমেকার স্থাপনের সুবিধা থাকায় উত্তরাঞ্চলের হৃদরোগীরা আংশিক সেবা পাচ্ছেন। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ বাইপাস সার্জারি ইউনিট স্থাপন করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই ইউনিটটি চালু হলে হাজার হাজার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত হৃদরোগী জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে সহজেই রক্ষা পাবেন এবং চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীমুখী হতে হবে না।
হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ডা. আবুল আলম জানান, এই হাসপাতালটি এই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাই অবদান রেখে যাচ্ছে। হাসপাতালে এনজিওগ্রাম ও পেসমেকার স্থাপনের সুবিধা রয়েছে বাইপাস সার্জারী ইউনিট চালু হলে কার্ডিওলজি বিভাগটি পূনাঙ্গ হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181326