দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হিমাগারে পড়ে আছে দেড়লাখ টন আলু, দাম কম ও ক্রেতা সংকট
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে বিপাকে আছেন। প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবং চাহিদা কম থাকায় বাজারে আলুর দাম কম। ফলে হিমাগারে মজুত রাখা আলু নিচ্ছে না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা খালাস হয়েছে। এখনও প্রায় দেড় লাখ বস্তা আলু হিমাগারে পড়ে আছে। বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬২ কেজির এক বস্তা আলু ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ উৎপাদন, পরিবহণ, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি বস্তায় কৃষকের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ টাকা। ফলে ৯২০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৪৮০ টাকা এবং ৯৬০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৪৪০ টাকা লোকসান হচ্ছে। মাঝামাঝি ৯৪০ টাকা দরে গড়ে বস্তাপ্রতি লোকসান দাঁড়াচ্ছে ৪৬০ টাকা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। এদিকে আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন।
সাধারণত এ সময় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে এসব খরচ মেটান তারা। কিন্তু দাম কম থাকায় আলু বিক্রি করতে না পারায় একদিকে হিমাগারে মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের অর্থ জোগাড়েও সংকট দেখা দিয়েছে।
আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরেও। ফুলবাড়ী পৌরবাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ট্রাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কেনাবেচা করছেন না। এদিকে খুচরা বাজারে ১২-১৬ টাকা পর্যন্ত আলু বিক্রি হচ্ছে।
আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে আবরও আগাম নতুন আলু বাজারে উঠতে শুরু করলে, এসব পুরাতন আলুর দাম আরও কমে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষক যাতে যৌক্তিক দাম পায়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181301