ছেলেকে শাসন করায় স্কুলে ঢুকে শিক্ষককে বেল্ট খুলে পেটালেন ছাত্রের বাবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্লাসে হইহুল্লোড়-চেঁচামেচি করছিল কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের থামতে বলেন শিক্ষক। না শোনায় পরে তাদের ডেকে শাসন করেন ওই শিক্ষক। এতেই বাঁধে বিপত্তি! কেন ছেলেকে শাসন করা হলো, এমন প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এক অভিভাবক। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে কোমরের বেল্ট খুলে পেটাতে শুরু করেন সেই শিক্ষককে। এ সময় তাকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে আক্রান্ত হন প্রধান শিক্ষকও।
ঘটনাটি ঘটে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর গোপালনগর থানার হরিপদ ইন্সটিটিউশনে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও পরে ওই অভিভাবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিদিনের সংবাদের বরাতে জানা যায়, গতকাল সোমবার স্কুলে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন চলছিল। বাংলার শিক্ষক অরুণ দাস ক্লাসরুমেই ওই রেজিস্ট্রেশনের কাজ করছিলেন। সে সময় ক্লাসেই একাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী হইহুল্লোড়-চেঁচামেচি করছিল। এ সময় তাদের থামতে বলার পরেও কাজ না হলে বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষক ছাত্রদের ‘শাসন’ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই স্কুলে এক অভিভাবক আসেন।
এ সময় দেবব্রত দাস নামে উত্তেজিত ওই অভিভাবক কেন তার ছেলেকে শাসন করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে চেঁচামেচি করতে থাকেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমরেশ চন্দ্র মণ্ডলের অফিসকক্ষে ঢুকে যান তিনি। সেখানেও গোলমাল করেন। এরপরই আচমকা ওই অভিভাবক কোমরের বেল্ট খুলে শিক্ষক অরুণ দাসকে মারতে শুরু করেন। প্রধান শিক্ষক তাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও মারধরের শিকার হন।
শিক্ষক অরুণ দাস বলেন, ছাত্ররা অশোভন আচরণ করায় আমি দু-একজন ছাত্রকে শাসন করি। এরপরই এক ছাত্র তার বাবা দেবব্রত দাসকে ফোন করে স্কুলে ডাকে। তিনি প্রধান শিক্ষকের ঘরে আচমকা ঢুকে পড়েন। দু-একটি কথা বলেই কোমর থেকে বেল্ট খুলে আমাকে মারতে থাকেন। প্রধান শিক্ষক ঠেকাতে গিয়ে তিনিও বেল্টের আঘাতে আহত হন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181283