বগুড়ার শাজাহানপুরে দৃশ্যমান হচ্ছে নির্মাণাধীন বিসিআইসি’র বাফার সার গোডাউন

বগুড়ার শাজাহানপুরে দৃশ্যমান হচ্ছে নির্মাণাধীন বিসিআইসি’র বাফার সার গোডাউন

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া জেলায় সঠিক সময়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় মানসম্মত সার পৌঁছে দিতে শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বাফার অত্যাধুনিক সার গোডাউন। জমি অধিগ্রহণ, ঠিকাদার নিয়োগ, নির্মাণ সামগ্রির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে দৃশ্যমান হচ্ছে বাফার গোডাউনের নির্মাণ কাজ। ২০২৭ সালের আগষ্টে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্যামিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)’র তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ৩৪টি বাফার গোডাউন নির্মাণে ২০১৮ সালে পরিকল্পনা গ্রহণ করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় বাফার গোডাউন নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রায় ৬ একর (৫শ’ ৯৬ শতক) জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অপরদিকে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট থেকে শুরু করে গুদাম ভবন, অফিস কাম গেষ্ট হাউজ, আনসার ব্যারাক, সাব-স্টেশন ও জেনারেটর রুম, টয়লেট জোন, ৪টি ওয়াচ টাওয়ার, অভ্যন্তরীন আরসিসি রাস্তা ও ড্রেন, পাম্প হাউজ, সীমানা প্রাচীর, মেইন গেইট ও গার্ড রুম, সাব-স্টেশন জেনারেটর ও ইকুইপমেণ্ট, সোলার সিস্টেম, স্ট্রীট লাইট ও পুকুর খনন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা মোতাবেক ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে শুরু করে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ, ঠিকাদার নিয়োগ, নির্মাণ সামগ্রির মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি জটিলতার কারণে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অবশেষে ২০২৭ সালের আগষ্টের মধ্যে বগুড়ায় বাফার গোডাউন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, সঠিক সময়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় মানসম্মত সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারের পর্যাপ্ত মজুদের জন্য পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা তৈরি করতে এ গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। খোলা স্থানে বা অনুপযুক্ত পরিবেশে সার সংরক্ষণ করলে তা দলা পাকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। আধুনিক গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে এ ক্ষতি কমিয়ে আনা বাফার গোডাউন স্থাপনের অন্যতম লক্ষ্য।

বগুড়ার শাজাহানপুরের সার ডিলার মো. আব্দুস সোবহান জিন্নাহ্ জানান, বগুড়া সদরের তিন মাথা এলাকায় বিএনডিসি’র একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে বিসিআইসি’র সার মজুদ রাখা ও ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় ওই গোডাউনের ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় অতিরিক্ত সার খোলা জায়গায় রেখে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে। ফলে সার দলা পাকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। বিসিআইসি’র নিজস্ব গোডাউন নির্মাণের ফলে সার নষ্ট হওয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। সেই সাথে সার বিতরণ ও কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো আগের চেয়ে সহজ হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181206