ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান সাবেক অধিনায়কদের
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। রোববার তাঁরা এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব, দিলীপ ভেংসরকার; ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, নাসের হুসেইন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও ডেভিড গাওয়ার; অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড ও নিউজিল্যান্ডের জন রাইট রয়েছেন।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতির মামলায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাঁরা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে শুক্রবার হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করার পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের এই দল। এবারের চিঠিতে তাঁরা মূলত তিনটি দাবি জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ডকে ইমরান খানের সম্পূর্ণ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার যে খবর পাওয়া গেছে, তা গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরানের পরিবারের সদস্যদের সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে এবং এতে কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব করা যাবে না।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগসহ শতাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ইমরান খান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181146