পাটের দামে স্বস্তি লাভের মুখ দেখছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকার কৃষক
বাগজানা (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : গত কয়েক বছর পাটের ফলন বিপর্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানে ছিলেন পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকরা। তবে চলতি মৌসুমে কিছু জমিতে পাট নষ্ট হওয়ার পরও আশানুরূপ ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম থাকায় এবার সোনালী আঁশ পাটে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। এতে তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে চাষাবাদে শ্রমিক মজুরিসহ উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারদর কম থাকায় অনেক সময় লোকসানে পড়তে হতো। এ কারণে অনেকে পাট চাষ কমিয়ে দিয়েছিলেন। ধরঞ্জী গ্রামের চাষি নূরুল ইসলাম দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ করেছেন এবং ফলন পেয়েছেন ৮ থেকে ১০ মণ। পূর্ব কড়াইয়া গ্রামের নূরুল আমিন নওশাদও লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে পাঁচবিবি বাজারে মান ও ধরনভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফারিয়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে পাট কিনছেন। তবে ফারিয়াদের বিরুদ্ধে ওজনের সময় প্রতি মণে এক কেজি বেশি পাট নেওয়ার (দেলতা বা অতিরিক্ত ওজন) অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন জানান, এ বছর পাঁচবিবি উপজেলায় ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারদর অনুকূলে থাকায় কৃষকরা কাঙ্খিত আয় করতে পারছেন। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে পাট চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/181083