জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দুটি হিমাগারে অবিক্রিত দুই লাখ বস্তা আলু, লোকসানের মুখে ব্যারসায়ীরা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দুটি হিমাগারে অবিক্রিত দুই লাখ বস্তা আলু, লোকসানের মুখে ব্যারসায়ীরা

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দুটি হিমাগারে প্রায় দুই লাখ বস্তা আলু অবিক্রত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আলুর দাম কম হওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষক পড়েছে অসহনীয় দূর্ভোগে । একদিকে হিমাগারে মজুত আলুর স্তূপ, অন্যদিকে বাজারে ক্রেতার অভার।

উৎপাদন, বাছাই, বস্তাবন্দি, পরিবহন ও হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর পেছনে যেখানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ টাকা, সেখানে বর্তমানে পাইকারি বাজারে মিলছে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা।

ফলে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১১ টাকা লোকসান গুনছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর কোল্ড স্টোরেজ ও দীনা কোল্ড স্টোরেজে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বস্তা আলু মজুত রয়েছে। বর্তমান বাজার দর ও সংরক্ষণ খরচের হিসাবে প্রতি বস্তায় গড়ে ৩০৫ টাকা লোকসান হলেও এ দুই হিমাগারে থাকা আলুতে সম্ভাব্য লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ কোটি ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে বাজারদর আরও কমলে লোকসানের পরিমাণ বাড়তে পারে। প্রতি দিনই আলুর দাম কমে যাচ্ছে ।

হিমাগার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত একটি বস্তায় ৬৫ কেজি আলু কেনা হয়। বাছাই ও নষ্ট আলু বাদ দেওয়ার পর বিক্রিযোগ্য থাকে প্রায় ৬০ কেজি। প্রতি বস্তা আলু কিনতে গড়ে ৫০০ টাকা, ভ্যান ভাড়া ৬০ টাকা, হিমাগার ভাড়া ৪০০ টাকা এবং বস্তা বাবদ ১২৫ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি বস্তায় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮৫ টাকা।

কিন্তু বর্তমানে ৬০ কেজির সেই বস্তা ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৩০৫ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। গোপীনাথপুর বাজারের আলু ব্যবসায়ী বাবু মন্ডল বলেন আগের বার দাম পাই নাই এবার দাম পাওয়ার আশায় আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর কোল্ড স্টোরেজে ১ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছি কিন্তু বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ও ক্রেতার সংকটে তার সেই মজুত এখন লোকসানের বোঝা মাথায় দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন আলু কেনা থেকে হিমাগারে রাখা পর্যন্ত প্রতি কেজিতে প্রায় ২৩ টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে চললে ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু রাখতে আগ্রহ হারাবেন। কৃষকরাও আগামী মৌসুমে আলু চাষে ঝুঁকি নিতে চাইবেন না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এক কেজি আলু উৎপাদনেই খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১৩ টাকা। এর সঙ্গে বাছাই, বস্তাবন্দি, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও হিমাগার ভাড়া যোগ হলে প্রতি কেজিতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ টাকা। অথচ পাঁচ মাস হিমাগারে রাখার পর সেই আলু বর্তমানে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা কেজি দরে।

ফলে উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১১ টাকা লোকসান হচ্ছে। আলু ব্যবসায়ীদের হিসাবে, হিমাগারে রাখা আলুর বাজারদর কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে কম দামেও আলু বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে মজুত আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার গোপীনাথপুর হিমাগারে ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে আলুর দরপতনের প্রভাব আমাদের হিমাগারেও পড়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যপক লোকসান হয়েছে। একারণে তারা আলু উত্তোলনের পরিমান অনেকটায় কম। বিগত বছরে এমন সময়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার বস্তা আলু উত্তোলন হয়েছে। এখনো বিপুল পরিমান আলু হিমাগারে রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180964