রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ফেরোমন ফাঁদে পোকা দমন কমছে কীটনাশকের ব্যবহার
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাড়ছে সবজি চাষ, সাথে বাড়ছে ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে এতদিন কীটনাশকের ওপর নির্ভর করলেও এখন পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।
কম খরচে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকায় মাঠপর্যায়ে দিন দিন বাড়ছে এ পদ্ধতির ব্যবহার। এতে কমছে কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ, পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর গঙ্গাচড়ায় খরিপ-১ মৌসুমে ৭৭৫ হেক্টর এবং খরিপ-২ মৌসুমে ৩৩০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে মিষ্টিকুমড়া, লাউ, মরিচ, টমেটো, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া ও শসাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এসব ফসলে মাছি পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলার পশ্চিম মাদ্রাইন, চেংমারী, খাপরিকাল, বড়বিল, নোহালীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবজি ক্ষেতের মধ্যে বাঁশ বা খুঁটির সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ছোট ছোট ফেরোমন ফাঁদ। বিশেষ গন্ধযুক্ত লিউরের আকর্ষণে ক্ষতিকর পোকা ফাঁদের কাছে এসে আটকা পড়ে। এতে পোকার বংশবিস্তার কমার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে খরচ তুলনামূলক কম। একটি লিউর কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং ফাঁদের পাত্রে প্রায় ৫০ টাকা খরচ হয়। একটি ফাঁদ প্রায় ছয় মাস কার্যকর থাকে। আগে ক্ষেতে পোকা দেখা দিলেই বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক প্রয়োগ করতে হতো। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ত এবং বারবার ওষুধ দিতে হতো। এখন ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি খরচও কিছুটা কমেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, ফেরোমন ফাঁদ পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর একটি পোকা দমন পদ্ধতি। গঙ্গাচড়ায় কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180928