মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পাশে ইইউ

মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পাশে ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দুই ভাগ করতে কূটকৌশলে লিপ্ত হয়েছে দখলদার ইসরায়েল। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং অবৈধ মা’আলে আদুমিম বসতির মধ্যে একটি অবিচ্ছিন্ন ইসরায়েলি বসতি করিডোর তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ই১-এ ১ প্রকল্পের নামে ২৩৪টি বসতি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে তেল আবিব। তাদের অবৈধ বসতি নির্মাণের এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার বার্তা দিয়েছে-সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও মিশর।

এসব তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা ও গালফ নিউজ। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইসরায়েল ই-১ প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু করলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক্ষেত্রে সংস্থাটি বাণিজ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দরপত্র আহ্বানের ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে-যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকল্পটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে দেশগুলো। একই সঙ্গে বসতি নির্মাণ কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ও সুনামগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নির্মাণকাজের চুক্তির জন্য দরপত্রে অংশ না নিতে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সতর্কতা জানিয়েছে তারা। ইসরায়েলের ই-১ বসতি পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (এমডব্লিউএল)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কার্যক্রম একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হুমকি। জানা গেছে, দরপত্রের বিষয়ে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যুক্তরাজ্য। এর পাশাপাশি পরিকল্পনাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশটি।

নতুন পরিকল্পনায় দুইভাগ পশ্চিম তীর : 

গত মঙ্গলবার জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত ই-১ এলাকায় ১২৩৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয়। ই-১ হলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি কৌশলগত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এটি পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত। এলাকাটি প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার। ই-১ এলাকায় ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি বসতি ও আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করে আসছে। ই-১ এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে পশ্চিম তীর উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে, ই-১-এ বড় আকারে বসতি নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180898