বগুড়ার সোনাতলায় হাটে-বাজারে ধানের চারার দাম আকাশচুম্বী, দিশেহারা কৃষক
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলার হাটে-বাজারে রোপা-আমন মৌসুমে প্রচুর ধানের চারার আমদানি হলেও দাম কৃষকের নাগালের বাহিরে। এতে করে কৃষক বিপাকে পড়েছেন। বগুড়ার সোনাতলায় চলতি রোপা-আমন মৌসুমে হাটে-বাজারে ধানের চারার ব্যাপক আমদানি দেখা যাচ্ছে।
তবে আমদানির পরিমাণ প্রচুর হলেও দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন পূর্ব বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকেরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব, অতিরিক্ত রোদ এবং সেচ সংকটের কারণে নিজস্ব বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাটের চারা কেনা ছাড়া কৃষকদের সামনে অন্য কোনো উপায় থাকছে না।
উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাট, করমজা হাট, ঠাকুরপাড়া সন্ন্যাসীর মেলার হাট, ভেলুরপাড়া হাট, কর্পূর হাট, বালুয়া হাট, হরিখালী হাট, তেকানীচুকাইনগর হাট ও পাকুল্লা হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যান, ট্রলি ও বাইসাইকেলে করে শত শত আঁটি ধানের চারা বিক্রির জন্য নিয়ে হাটে হাজির কৃষকেরা।
ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৮৯, ৯২ সহ রঞ্জিত ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের চারার পসরা বসেছে বাজারে। প্রতি পণ চারা ৩শ’ ৫০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়াও সুগন্ধি চালের সাদা ও কালো ধানের চারা ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। তীব্র খরা এবং দেরিতে বৃষ্টি আসার কারণে অনেক জায়গায় বীজতলা শুকিয়ে নষ্ট হয়েছে। ফলে হাটে চারার তীব্র চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও চারা উৎপাদনকারীরা অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পণ (৮০ আঁটি) চারার দাম প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে।
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাটে চারা কিনতে আসা পদ্মপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, নিজের বীজতলার চারা রোদ আর সেচ দিয়েও বাঁচাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে হাটে এসেছি চারা কিনতে। কিন্তু দাম বেশি।
অন্যদিকে ঠাকুরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম সোনা মাস্টার, মোজাম্মেল হক ঝুন্টু, বকুল প্রামানিক বলেন, ডিজেলের দাম ও সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চারা উৎপাদনের খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
এছাড়া নিচু জমি তলিয়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় চারার ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে বাজারে প্রতি আঁটি চারার দর বাড়াতে হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন চাষ সফল করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চারা সংকট এড়াতে এবং নির্ধারিত মূল্যে গুণগত মানের চারা কেনাবেচা নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। একই সাথে খরা সহনশীল জাতের চারা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180838