ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন, কে এই নাটালি হার্প?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে গত কয়েক বছরে আলোচনায় থাকা নাটালি হার্পকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজে তার দৃশ্যমান ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে।
৩৫ বছর বয়সী হার্পকে নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের এক মন্তব্যের পর। তিনি রসিকতা করে দাবি করেন, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প তার ৩৫ বছর বয়সী সহকারী হার্পের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়েছেন, যা তাকে বিভ্রান্ত করেছে। ট্রাম্পের কাজের বদলে বলরুম নির্মাণ ও কাতারের আমিরের দেওয়া উড়ন্ত প্রাসাদে হার্পকে নিয়ে ভ্রমণের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এ মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচিতি বাড়ে তার ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। ট্রাম্পের সমর্থিত ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের আওতায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পরে ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডেও যুক্ত হন।
ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। ২০২২ সালে তিনি আবার ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে যোগ দেন।
হোয়াইট হাউজে হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ প্রেসিডেন্টের নির্বাহী সহকারী। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে সাধারণ প্রশাসনিক কাজের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। ওভাল অফিসের বৈঠক থেকে শুরু করে ট্রাম্পের বিভিন্ন সফরেও তিনি পাশে থাকেন।
ট্রাম্পের জন্য একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কপি পৌঁছে দেওয়ার কারণে হার্পকে অনেক সময় ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বলা হয়। ট্রাম্প মুদ্রিত কাগজে তথ্য পড়তে পছন্দ করায় তার এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে তাকে ট্রাম্পের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘গেটকিপার’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও হার্প সহায়তা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের একটি ভিডিওতে তাকে ট্রাম্পের পাশে বসে তার ভাষা ও ভঙ্গিতে একটি পোস্ট টাইপ করতে দেখা যায়।
সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনাতেও হার্পের উপস্থিতি আলোচনায় আসে। সম্ভাব্য ইরানি হামলার হুমকির তথ্য পাওয়ার পর ট্রাম্প ছোট একটি দলের সঙ্গে গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই দলের সদস্যদের মধ্যে হার্পও ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সিনেটর জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।
তবে হার্পের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তার ভাই প্রেস্টন হার্প জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তার বোন হোয়াইট হাউজে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন এবং আগের কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও চিঠি লিখেছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180768