নওগাঁয় বৈধতা ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নওগাঁয় বৈধতা ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ঠিকঠাক না থাকলেও দেদারছে অবৈধভাবে বছরের পর বছর তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

যখন কোন বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরপর আবার যখন প্রশাসনিক তৎপরতা হারিয়ে যায়- অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় তাদের অবৈধ কার্যক্রম শুরু করে।

অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই নির্ধারিত চিকিৎসা প্রদানের উপযুক্ত পরিবেশ। আবার যেসকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলো সেই সকল সরকারি হাসপাতালগুলো ২৪ ঘণ্টাই ওই সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দালালদের দ্বারা ঘিরে থাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো।

অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণে সরকারি হাসপাতালে আসা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষরা চিকিৎসা সেবা নিতে এলেই তাদেরকে অপ্রয়োজনীয় টেস্টের ফাঁদে ফেলা হয়।

যার ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এলেও তাদেরকে অহেতুক বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা করাতে হয়। নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ১১৫টি নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় রয়েছে ৪৩টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকদিন যাবত বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ণ ছাড়াই জেলাজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অবৈধভাবে অনিয়মের বেড়াজালে এই সকল বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকগুলো পেশীজোর ও রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও উদাসীন স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পুরো জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আনার সকল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। যে সকল বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অনিয়মের সন্ধান পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আগের চেয়ে জেলার স্বাস্থ্য সেবাখাত অনেক ভালো ও উন্নত হয়েছে। সকল প্রকারের অনিয়মের মধ্য থেকে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে বের করে আনতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সরব রয়েছে। এরপরও তথ্যপূর্ণ অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত সাপেক্ষে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180628