বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পানির নিচে: শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পানির নিচে: শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিচু মাঠটিতে সারাবছর পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, এলাকার বেশ কিছু বিদ্যানুরাগী বিশেষ করে বাবু গুরুচরণ কুন্ডুর উদ্যোগে ও স্থানীয় চৌধুরী পরিবারের প্রচেষ্টায় ১৯২৩ সালে দুপচাঁচিয়া হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্কুলটি সুনামধন্য হয়ে উঠে।  ১৯৮৬ সালে এই স্কুলটি পাইলট স্কিমে গড়ায়।

এর নাম তখন থেকে দুপচাঁচিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি সরকারি গেজেট ভুক্ত হয়। অথচ বিদ্যালয়ের সামনেই ভরাটকৃত নিচু জায়গাতে সৃস্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন উদ্যেগ নেওয়া হয়নি । বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ের ভবনগুলোও ঝুকিতে পড়েছে।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র সুদিপ্ত কুমার, রবি কুমার, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র কৌশিক মহন্ত, মিশকাত, মোমিন, জিসানসহ অনেকেই জানান, বিদ্যালয়টির সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তারা খেলাধূলা করতে পারছে না। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ জায়গার পানি উপচে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাস্তার উপর ইট দিয়ে তাদেরকে চলাচল গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিছুল ইসলাম লিটন জানান, বিদ্যালয়ের সামনের নিচু জয়গাটি একটি বড় সমস্যা। বিদ্যালয়টি দুপচাঁচিয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নিচু জায়গাটি ভরাট করতে আইনগত জটিলতা রয়েছে।

ফলে পরিষদের অর্থায়নে তা ভরাট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) অথবা কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের মাধ্যমে নিচু জায়গাটি ভরাট করা সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিকবার উপস্থাপনও করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নিচু জায়গাটি ভরাট জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

এদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউএনও শাহ্রুখ খান জানান, ঐতিহ্যবাহী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজন রয়েছে। তাই দ্রুত ওই নিচু স্থানটি ভরাট করে শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার উপযোগির স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180607