দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামীকাল
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম বৈধ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ প্রত্যাহার করেননি। ফলে ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোট হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট কীভাবে গ্রহণ ও পূরণ করবেন এবং ভোট গণনা শেষে কীভাবে ফল ঘোষণা হবে, তা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল আলমগীর ইসলাম এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ইসি সচিব জানান, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন। এরপর ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরে আখতার আহমেদ বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোটদানকারী সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। এর নিচে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। এরপর ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন।
মূল ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুযায়ী মুদ্রিত থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার পর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরই ব্যালট গণনা শুরু হবে। ইসি সচিব জানান, মোট ভোটার ৩৪৯ জন। গণনার সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে, তা হিসাব করা হবে। এরপর প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ভোটের হিসাব করা হবে। যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তাকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ফলাফল অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো : মির্জা ফখরুল: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা'র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। এসময় তিনি প্রত্যেকের খোঁজ-খবর নেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমিটি : আইজিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সাক্ষাৎ শেষে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সিইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে শিগগির বিস্তারিত ইসিকে অগ্রগতি জানানো হবে। আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই কমিটি মাঠ পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনকে বিস্তারিত তুলে ধরবে বলে জানান আইজিপি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের রিট খারিজ : সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিটটি করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।'
রিটকারী আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180525