সরকারের ১৮০ দিন, জনগণের প্রাপ্তি!

সরকারের ১৮০ দিন, জনগণের প্রাপ্তি!

মোঃ নজিবর রহমান জিয়া : ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর যাবৎ দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং একনায়কতন্ত্রের অবসান হয় ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট। ৫ই আগষ্টে ছাত্র-জনতার দুর্বার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি জামায়াতসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তি নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

জনগণ ভেবেছিল রাজনৈতিক দলের বাহিরে অরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ব্যক্তিগণের মাধ্যমে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো, উক্ত সরকার দলমত নির্বিশেষে দেশের মঙ্গলের জন্য তথা জনগণের প্রত্যাশা মতে দেশের সকল স্তরে সংস্কার করবেন এবং সকল ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে সত্যিকারের বাংলাদেশ গড়তে এবং উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করবেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ০২ বছরের শাসনামলে সত্যিকারের সংস্কার চোখে পড়েনি।সিন্ডিকেট ভাঙ্গা তো দূরের কথা সিন্ডিকেটের অত্যাচারে তেল সহ বিভিন্ন দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবই হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ০২ বছরের মধ্যে অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেন। 

জনগণ আবারও আশায় বুক বাঁধে যে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার আমরা পেয়েছি। এবার হয়তো জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আমরা পাব। তারেক রহমানের মত বিচক্ষণ, সৎ, নীতিবান এবং চৌকস প্রধানমন্ত্রী আমরা পেয়েছি কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মতো সৎ ও চৌকস আমলা পাই নাই। ফলে সরকারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীগণের কাজের গতি থাকলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেকাংশেই আলোর মুখ দেখছে না। রাজনৈতিক কৃষ্টি-কালচারের কিংবা রাজনৈতিক নেতাগণের মনোবলের পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু আমলাগণের কোন পরিবর্তন হয় নাই। এই সংকটময় পরিস্থিতির মুখে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একচ্ছত্র পরিশ্রমের ফল হিসেবে অতি অল্প সময়ের মধ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও মুয়াজ্জিমগণের মাসিক সম্মানী ভাতা, খাল খনন প্রভৃতি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে। 

সরকার প্রধান তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশপ্রেমের বেশ কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। জনগণের বিবেচনায় বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ভাল সফলতা এসেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া দেশে উপযুক্ত বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহায়তা সহ বৈদশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও আশানুরুপ ফলাফল নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।

দেশে বর্তমানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুতের ঘাটতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানী ঘাটতি মেটানোই বড় চ্যালেঞ্জ। এই কয়েকটি খাতে সরকারের সাময়িক, দীর্ঘমেয়াদী এবং মধ্যে মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন পূর্বক গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার প্রদান করা আবশ্যক। দেশের উন্নয়নে বা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে সরকারের চেষ্টার অভাব নাই। কিন্তু দেশের মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ জেলা উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ  মাত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এতে ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অফিসে ৫ই আগষ্টের পূর্বের ন্যায় ঘুষ, দুর্নীতির রমরমা বাণিজ্য এখনও চলমান আছে। এতে জনগণের ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ আমরা হাতছাড়া করতে পারি না। কিন্তু সরকারি আমলারা এটা কোনভাবেই হতে দিবে বলে মনে হচ্ছে না। 

রাজনীতিবীদ ও আমলাগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে স্নায়ু যুদ্ধ চলছে। সরকার ও বিরোধীদলের একাত্মতাই পারে এই যুদ্ধে আমলাদের পরাজিত করতে। আমলারা দেশপ্রেমিক হলেই কেবলমাত্র দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের কৃষ্টি কালচারে বড় হয়ে ওঠা আমলারা সেই পরিবর্তন চাইবে না বা হতে দিবেনা এটাই স্বাভাবিক। এখনও হয়তো তারা ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধানের আগমণের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি কবে বাংলাদেশে পা দিবেন সেই দিন এই আমলাগণের প্রকৃত চরিত্র ফুটে উঠবে। দেশের মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ সেকশন, ভূমি রেজিষ্ট্রেশন সেকশন, ভূমি অফিস, ভূমি জরিপ অধিদপ্তরে বিনা ঘুষে কোন কাজ হয় না।

 তাই সরকারের উচিত দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে মাঠ পর্যায়ে সরকারি প্রশাসনগুলো ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। জনগণ যাতে বিনা পয়সায় এই অফিসগুলো থেকে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তবেই প্রকৃত উন্নয়ন বা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হবে। অন্যথায় তাদের কাজের দুর্নীতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। একটি সরকারের কর্মকান্ড মাত্র ০৬ মাসে মূল্যায়ন করা যুক্তিসঙ্গত হয় না। তথাপি শুরুটা ভাল হলে শেষটা সহজেই অনুমান করা সম্ভব হয়। তাই আমরা চাইনা দেশে আর কোন ৫ই আগষ্টের মত ঘটনা ঘটুক বা আবারও জনগণের বুকের তাজা রক্ত ঝরুক।

লেখক ও কলামিষ্ট।
০১৭১৩-৩৭৭০৭৮ nazibar 1980@gmail.com

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180398