মূল সড়কে বসতে পারবে না হকাররা, চালু হচ্ছে হলিডে ও নাইট মার্কেট
ঢাকার ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি হকারদের জন্য সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। মূল সড়কে হকার বসানোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।
নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ঢাকার মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে এমন সড়কে পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ফাঁকা রেখে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদের জন্য চালু করা হবে হলিডে ও নাইট মার্কেট।
সভায় প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব রাখতে হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি। সরকার নিবন্ধিত হকারদের স্থায়ী সমাধান দিতে চায়। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সব ভাসমান মানুষকে ঢাকায় হকার হিসেবে পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়।
‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি দিয়ে হকারদের নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়ন করতে হবে। এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ছুটির দিনে হলিডে মার্কেট এবং বাণিজ্যিক এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নাইট মার্কেট পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য অন্তত ১ দশমিক ৫ মিটার জায়গা খালি রাখতে হবে। হকারদের স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ জায়গা নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি বা ময়লা ফেলার মতো নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি লাইসেন্স ছাড়া বা নির্ধারিত সীমানার বাইরে ব্যবসা করলে উচ্ছেদ এবং নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।
সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হকার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় পরিচ্ছন্ন, পথচারীবান্ধব ও যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180390