বগুড়ায় শূন্য জনবলে ধূসর পাটের সোনালী স্বপ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : চরম জনবল সংকটে ভুগছে বগুড়া জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শক ও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। এক বছরেও বেশি সময় ধরে শূন্য বগুড়ার মুখ্য পাট পরিদর্শকের পদ। এছাড়াও দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর গত মাসে বগুড়ায় যোগদান করেছেন পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা। আর বাকি ৬টি পদের একটিতেও নেই কোন লোকবল। শূন্য জনবল নিয়ে একাই কার্যক্রম সামলাচ্ছেন বগুড়ার পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা।
বগুড়া জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শক ও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে মুখ্য পাট পরিদর্শকের পদ। নাটোর জেলার দায়িত্বে থাকা মুখ্য পাট পরিদর্শক মহি উদ্দিন ভূঁঞা-নাটোর, পাবনা ও বগুড়ার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এছাড়াও শুরু থেকেই শূন্য রয়েছে-দুই পরিদর্শক, চার সহকারী পরিদর্শকের পদও।
পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে মাত্র একটি উপজেলা-সোনাতলায় পরিদর্শকের কার্যালয় থাকলেও সেখানেও নেই কোন জনবল। জনবল শূন্য থাকায় বগুড়ায় সোনালী আঁশ পাটের স্বপ্ন ধূসর হতে শুরু করেছে। জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের মুখ্য পাট পরিদর্শক বা মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয় মূলত পাট ও পাটজাত পণ্যের বিকাশ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা সুসংহত করার দায়িত্ব পালন করেন।
এই কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্বে মধ্যে রয়েছে-কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য ব্যবসায়ী, পাটকল এবং রপ্তানিকারকদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স প্রদান ও নিয়মিত নবায়নের কাজ পরিচালনা করা। আইন বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। প্লাস্টিকের ব্যাগের অবৈধ ব্যবহার রোধ এবং পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার তদারকি।
পাটকল এবং বাজারগুলোতে উৎপন্ন ও বিপণন করা পাটজাত পণ্যের মান পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট মান বজায় রাখতে সহায়তাসহ এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সরকারকে সরবরাহ। উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদনে চাষিদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হয় তাকে। অথচ বগুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদনের জেলায় দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য।
অপরদিকে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব হলো-কৃষকদের মাধ্যমে পাটের ফলন বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং পাটের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
উন্নত পাট চাষে সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের পাটবীজ বিতরণ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দিক নির্দেশনা প্রদান করা। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা দেখানোর জন্য মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনীসহ আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতাও তার দায়িত্ব। অথচ তার কার্যালয়েও মাত্র একজন কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় কার্যালয় দু’টি তালাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বগুড়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক মহি উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, নাটোর ও পাবনার সঙ্গে বগুড়ার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মাসে কয়েকবার মাত্র এখানে আসা হয়। জনবল সংকটের কারণে পাট কেনা-বেচার ভরা মৌসুমে তিন জেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে করে বাজার ও কারখানা পরিদর্শনসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বগুড়ার পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, তার কার্যালয়ে দুইজন কর্মচারী ছিল। তবে তারা বর্তমানে অবসরজনিত ছুটিতে। মূলত তিনি একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, হাট-বাজার পরিদর্শন এবং বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে গিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিস তালা দিয়ে রাখতে হয়। তারপরেও মুখ্য পাট পরিদর্শকের সাথে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/180368